দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি শিপইয়ার্ড করার আকাঙ্ক্ষা আছে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি শিপইয়ার্ড করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সদ্য স্বাধীন দেশ, কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না, কারেন্সি নোট ছিল না, একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করার যা প্রয়োজন বঙ্গবন্ধু সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আমাদের যে অধিকার, ল্যান্ড বাউন্ডারি, সমুদ্রসীমা সেই সবগুলো তিনি চুক্তি এবং আইন করে গিয়েছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় আসে তারা এগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়নি। সমুদ্র সম্পদ আমাদের বড় সম্পদ। আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা। সমুদ্র এবং সমুদ্র সম্পদের ওপর দেশের জনগণের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম জোন অ্যাক্ট প্রণোয়ন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম এ ধরনের আইন পাস হয়। জাতিসংঘ এই আইন করে ১৯৮২ সালে। ১৯৮২ সালে এই আইন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ অঞ্চলেই না, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশেও মেরিটাইন জোন নিয়ে যে প্রবলেম ছিল সেটা ৭৪ সালের আইন দিয়েই সমাধান করা হতো।
তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, ৭৫ এর পরে যারা এসেছিল ক্ষমতায়, জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ অথবা খালেদা জিয়া—তারা কেউ কিন্তু আমাদের মেরিটাইম বাউন্ডারি নিয়ে কোনো উদ্যোগই নেয়নি। আমরা ৯৬ সালে যখন সরকারে, তখন প্রথম আনক্লজে সই করি এবং কিছু উদ্যোগ নিই। পরবর্তীতের যখন আমরা সরকারে আসি, আমাদের এই সমুদ্রসীমায় যে অধিকার আছে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত করি। ভারত এবং মিয়ানমার দুটি বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেও আমরা আমাদের সমুদ্রসীমা নির্দিষ্ট করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা চাই, আমাদের যে সম্পদ আছে সে সম্পদ আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগুক। এটা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সমুদ্রসীমা সংরক্ষণ করা, নদীমাতৃক বাংলাদেশকে নিরাপদ করার জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একান্তভাবে দরকার। কোস্ট গার্ড এই দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। আমাদের এ অঞ্চল বে অব বেঙ্গল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অবশ্যই চিন্তা করতে হবে আমাদের এ অঞ্চলের সব নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রয়োজন এবং সেদিকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সেগুলো আমরা যথাযথভাবে করে যাচ্ছি।
কোস্ট গার্ড সৃষ্টির স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিরোধী দলে, আমাদের এত বেশি সদস্য সংখ্যা ছিল না। আমরা যখন বিলটা নিয়ে এলাম, আমরা জানতাম সরকার কখনো এই বিল পাস করবে না। আওয়ামী লীগের সদস্য সব সময়ই পার্লামেন্ট প্র্যাকটিসে ছিলাম। হাউসে উপস্থিত থাকতাম। জামায়াত এবং বিএনপি মিলে সরকার গঠন করেছিল। তারা পার্লামেন্টে খুব একটা উপস্থিত থাকতো না। বিলটি যখন ওঠে, কণ্ঠভোট আসে আমরা গুনে দেখি আমরা সংখ্যায় বেশি। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একজন সদস্য ডিভিশন ভোটের দাবি করে এবং ডিভিশন ভোটে বিরোধী দল জয় লাভ করে। তখন এই আইনটি পাস হয়। এটা একটি ঐতিহাসিক ব্যাপার, ১৯৯৪ সালে ঘটনাটি ঘটেছিল।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আমরা সরকারে আসার পর কোস্ট গার্ডকে আরও শক্তিশালী করা, বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের ভূমি প্রদান, অবকাঠামো নির্মাণ, জলযান প্রদানের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রশিক্ষণে জন্য পটুয়াখালীতে আমরা চমৎকার অবকাঠামো নির্মাণ করে দিয়েছি। যাতে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক পার্যায়ে সুনাম অর্জন করে। গত ১৩ বছরে কোস্ট গার্ডের জন্য বিভিন্ন আকারের ৭৭টি জাহাজ, জলযান নির্মাণ ও সংযোজন করা হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষিণ অঞ্চলে আরেকটি শিপইয়ার্ড করার আকাঙ্ক্ষা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেটা হয়তো ভবিষ্যতে আমরা দেখবো। জায়গা আমরা দেখে রেখেছি। গত বছর বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৯টি জাহাজ ও একটি ঘাঁটি কমিশনিং করা হয়েছে। এই নৌযানগুলো যুক্ত হওয়ায় সংস্থাটির জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। কোস্ট গার্ডের গভীর সমুদ্রে টহল উপযোগী আরও ৪টি ওপিভি এবং ৯টি প্রতিস্থাপক জাহাজ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শিগগির এই বাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির জাহাজ, ওভারক্র্যাফট ও দ্রুত গতিসম্পন্ন বোট। এ ছাড়া, গভীর সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডে নিজস্ব জনবল নিয়োগ কার্যক্রম ও ফোর্স পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।