দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকরা

নিজস্ব সংবাদাদতা, দিনাজপুর

বকেয়া বেতন পরিশোধ, কাজে যোগদান ও করোনাকালীন বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে বাড়ি যেতে দেওয়ার দাবিতে তৃতীয় দিনের মত বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) খনি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে খনির কয়লা সরবরাহ গেটের ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা ও বাইরে এখনো বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

আজকের কর্মসূচিতে ভেতরের শ্রমিকদের মধ্যে আমিন হোসেন, সেরাজুল ইসলাম, জাকির হোসেন বক্তব্য দেন। বাইরের সমাবেশে বক্তব্য দেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম, শ্রমিক নেতা মো.সাইফুল ইসলাম,ফরহাদ হোসেন।

বিসিএমসিএল খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, দাবির বিষয়ে আজ সকাল থেকে এ পর্যন্ত কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। দাবি পূরণ না হলে শ্রমিকরা ঈদের দিনও পরিবার নিয়ে আন্দোলন করবেন।

তিনি আরও জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে খনিতে মোট ১ হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছিলেন। ২ বছর আগে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে তাদেরকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০০ জন শ্রমিককে কাজে ফেরত আনা হয়। তবে বাকি ৭৪৭ জনকে এখনো কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ছুটি দেওয়ার সময় প্রতি মাসে শ্রমিকদের সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকা দেওয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ৮ মাস ধরে ৭৪৭ জন শ্রমিক তা আর পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে কাজে যোগ দেওয়া ৪০০ শ্রমিককে নিয়মিত টাকা দেওয়া হলেও, কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে তাদের ঈদে বাড়ি যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে বাইরের  শ্রমিকদের জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫৫ লাখ  টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খনির একটি ফেজ চালু হয়েছে, যা শেষের পথে। তাই জনবল কম লাগছে, সেইসঙ্গে থাকার জায়গাও কম। আরও একটি ফেজ চালু করার প্রস্তুতি চলছে, যাতে মাস দুয়েক সময় লাগবে। ওই ফেজটি চালু হলেই বাইরের (এখনও বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ৭৪৭ জন)  শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে কাজে নেওয়া হবে।'

কাজে যোগ দেওয়া ৪০০ শ্রমিকের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি এখনও কোভিডের বাধ্যবাধকতা মেনে চলছে।'

গত ২৪ এপ্রিল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে খনি কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেন। কিন্তু সাড়া না পেয়ে গত বুধবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।