দেশে চীন-বাংলাদেশ ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র বলে কিছু নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
'চীন ২০১১ সালে সরবরাহ করা সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশে সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেমের জন্য একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে' নিক্কেই এশিয়ার এমন প্রতিবেদনের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'চীন-বাংলাদেশ ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র বলে কিছু নেই এবং ভবিষ্যতে কিছু করার পরিকল্পনা নেই।'
সরকার লিখিতভাবে ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'যখন একটি দেশ অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো সরঞ্জাম কেনে, তখন রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বাইরে আর কিছু নেই। ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হাবের মতো কিছু হবে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।'
এর আগে রোববার চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সাংবাদিকদের একই কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে তার কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, 'মিসাইল রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র? দুর্ভাগ্যবশত, আমার কাছে এর কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। বাংলাদেশ সরকারের এমন কিছুর প্রয়োজন আছে কি না, আমি আপনার তা নিশ্চিত করতে পারব না।'
'এটি মিডিয়া থেকে পাওয়া খবর,' যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'চীন বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশে তার ব্যবহারের জন্য কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে না।'
ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের চুক্তির বিষয়ে বেইজিং ও ঢাকার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে, একজন সিনিয়র বাংলাদেশি কূটনীতিকের বরাত দিয়ে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দুই দেশ এ বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিক্কেই এশিয়া গত ১১ মার্চ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল।
এতে বলা হয়েছিল, 'বেইজিং ও ঢাকা বর্তমানে এই চুক্তির বিষয়টি আড়াল করে রাখতে চায়। কারণ এশিয়ায় আঞ্চলিক আগ্রাসন চালানোর ফলে নিরাপত্তা ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় চীনের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তদন্ত চালাচ্ছে।'
এতে আরও বলা হয়, 'ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা আরও জটিল হয়েছে, যেহেতু বিশ্ববাসী এখন যুদ্ধ বন্ধ করতে শান্তির জন্য আন্দোলন করছে।'
চীনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড এই ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশীদার উল্লেখ করে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, 'এটি বাংলাদেশে চীনা সামরিক বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার একটি অংশ। এ সহযোগিতার মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, নেভাল গান, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম আছে।'