‘ধর্ম নিয়ে পাঠ্যবইয়ে কোনো কিছু সরানো বা যুক্ত করা হয়নি’

নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁদপুর

ধর্ম নিয়ে পাঠ্যবইয়ে কোনো কিছু সরানো হয়নি এবং যুক্ত করাও হয়নি উল্লেখ করে এ বিষয়ে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তার ভাষ্য, বিদেশে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও জামাত-শিবিরের বিরাট একটা অংশ এই কাজগুলো করছে।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২১-২২ অর্থবছরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন সহায়তার খাত থেকে পাওয়া চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'যারা এই দেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মভীরু মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, যারা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা তো ওই সংসদ সদস্যের ভুল তথ্যের ভিডিও দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, উত্তেজিত করছে। এজন্য এসব বিভ্রান্ত থেকে মানুষকে সচেতন হবে। তবে কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাইবার ক্রাইম সিকিউরিটির আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানাব।'

চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা চরাঞ্চলে অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে তাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। কারণ অনেক সময় চরাঞ্চলে শিক্ষক পাওয়া যায় না। আমরা সেটার দিকে নজর দিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা নানা রকম অডিও ভিজুয়াল তৈরি করছি। চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকট দূর করতে স্থানীয় পর্যায় থেকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব। যদি আমরা উপযুক্ত শিক্ষক না পাই, তবে এই অডিও ভিজুয়াল কনটেন্ট মাধ্যমে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করব। যাতে করে তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।'

পরে ২০২১-২২ অর্থবছরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন সহায়তার খাত থেকে পাওয়া ৫৬ লাখ টাকার চেক ১০১ জনের হাতে তুলে দেন দীপু মনি।

পাঠ্যপুস্তকের বিষয়ে গত ৬ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, 'আমি তখন দেশে ছিলাম না, একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের পাঠ্যপুস্তক সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। সেটা তিনিই আবার কদিন পরে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তার এই তথ্যগুলো সঠিক ছিল না এবং এখনকার বইয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। তিনি এগুলো প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা যে যেখানেই থাকি, জনপ্রতিনিধি হই বা অন্য যে কোনো দায়িত্বেই থাকি না কেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটা দেশের প্রতিটি মানুষকে ছুঁয়ে যায়। সেই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার সময় সব থেকে ভালো সঠিক তথ্য জেনে নিয়ে কথা বলা।'

তিনি আরও বলেন, 'সমাজের একটি অংশ সব সময়ই কিছুটা হলেও ধর্মের দোহাই দিয়ে নানানভাবে আমাদের এগিয়ে যাওয়াকে বন্ধ করার চেষ্টা করে। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করে। তারা তার এই বক্তব্যের ভিডিওটা ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি যেখানে বলেছেন, যেখানে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, সেখানেই শেষ না। এটা একটা ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। এই বক্তব্য দেওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে একটা প্রচারণা চলছিল যে, আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ধর্ম শিক্ষা সব সময় ছিল, এখনো আছে। না থাকার কোনো কারণ দেখি না। আমরা বারবার বলছি, আমাদের শিক্ষায় জ্ঞান-দক্ষতা যেমন থাকবে তার পাশাপাশি সঠিক মনোভাব এবং তার মূল্যবোধ এবং নৈতিক জায়গায় ধর্ম শিক্ষা একটি আবশ্যিক বিষয়।'

'যারা ধর্ম শিক্ষা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে ধোঁয়া তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য ধর্মকে রক্ষা করা নয়, ধর্মের পক্ষে থাকা নয়, তাদের উদ্দেশ্য ধর্মকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করা। দেশের ধর্মভীরু সাধারণ মানুষকে অন্যায়ভাবে উসকে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একটা পরিবেশ তৈরি করা এবং আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করা', বলেন শিক্ষামন্ত্রী।