নারায়ণগঞ্জে ‘ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট’ বাংলাদেশের জন্য মডেল: ব্রিটিশ হাইকমিশনার
নায়ারণগঞ্জে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সৌরশক্তি ও ডিজেল চালিত 'ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট' বাংলাদেশের জন্য মডেল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার চ্যাটার্টন ডিকসন।
আজ বুধবার বিকেলে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নির্মানাধীন নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউকেএআইডি ও ওয়েস্ট কনসার্ন- এর যৌথ উদ্যোগে 'দাহ্য প্ল্যান্ট এবং চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহের যানবাহন এবং সরঞ্জাম হস্তান্তর' উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
'বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ' প্রকল্পের দাতা সংস্থা যুক্তরাজ্য সরকার ও বাস্তবায়নে কাজ করছেন ওয়েস্ট কনসার্ন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এর নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, 'মেডিকেল বর্জ্য কেবল বাংলাদেশের জন্যই বড় সমস্যা না। এটা সারা বিশ্বের জন্যই সমস্যাজনক। বাংলাদেশে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই, এর অবকাঠামোও হয়ে উঠেনি। নারায়ণগঞ্জে পাইলটিং প্রজেক্ট করতে পেরেছি এটা অনেক বড় সাফল্য।'
'এই প্রকল্পে শুধু ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে তা নয়। এখানে অনান্য বিষয়গুলো দেখা হয়েছে যেমন, কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, মাটি ও বাতাসে যেন কোনো ক্ষতি না হয়, চারপাশের পরিবেশ যেন ঠিক থাকে। এখানে সৌর শক্তিতে বিদ্যুৎ হচ্ছে। যেটা না হলে বিদ্যুৎ দিয়ে করতে হতো। প্রকল্পটি যেন পরিবেশবন্ধব হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা হয়েছে। এখান থেকে আরো অনেক শহরে এই মডেলটা ছড়িয়ে যাবে। আমরা গর্ব বোধ করছি যে এর সঙ্গে আমরা থাকতে পেরেছি,' বলেন তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরও বলেন, 'আমরা পরিছন্নকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি যে, হাসপাতালে কীভাবে বর্জ্যগুলো আলাদা করে রাখবে, কীভাবে সংগ্রহ করবে, কীভাবে পরিবহন করবে এবং কীভাবে এটা পোড়াতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটা যতটা সম্ভব পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা দেশের জন্য মডেল হবে।'
বক্তব্য শেষে হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহের জন্য দুটি ৩ টন ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাক এবং সরঞ্জাম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হস্তান্তর করেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, 'আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে এটা প্রথম একটি প্রকল্প নারায়ণগঞ্জে উদ্বোধন করছি। এটার সুবিধা আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী ভোগ করবো।'
তিনি বলেন, 'এখান থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাবে এবং এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আমরা সিটি করপোরেশন সবসময় জনস্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করি, নারায়ণগঞ্জকে জনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ার জন্য কাজ করি।'
ওয়েস্ট কনসার্ন এর পরিচালক ইফতেখার এনায়েতউল্লাহ বলেন, 'এই প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। এর মধ্যে ছিল সার্ভে করা, ট্রেনিং দেওয়া ও ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট স্থাপন করা। এটা সৌর শক্তি ও ডিজেল চালিত ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট। এখানে কিছু কিছু যন্ত্রাংশ চলবে সৌর শক্তি দিয়ে। আর বর্জ্যগুলো ডিজেল দিয়ে পোড়ানো হবে। আমাদের সৌর শক্তির যেই পদ্ধতিটা আছে সেটা ৮ কিলোওয়াট। ফলে এই পাওয়ারটা সারাক্ষণ লাগবে না। বর্তমানে যে বর্জ্য আসবে সেটা পোড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা লাগবে। ফলে আরো ৬ ঘণ্টা এমনিতেই পড়ে থাকবে। এই ৬ ঘণ্টার যে সৌর বিদ্যুৎ এটা যাবে জাতীয় গ্রিডে। এটা পরবর্তীতে মিটারে দেখা যাবে আমরা কী পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়েছি। এটা কোনো মেগাওয়াট না, কিলোওয়ার্ট। যদি আমরা পরবর্তীতে বড় করতে পারি তখন এ বিদ্যুৎ বেশি হবে।'
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা আলীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন ।