মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যালট ছিনিয়ে সিল মারার অভিযোগ
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের পর ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরেছে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর দে, এ, মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটেছে।
এর এক ঘন্টার কম সময় আগে জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল, পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিলু রায়, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদির মিয়াসহ প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।
টেংগারচর ইউনিয়নের দে, এ, মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার মানিক গোলদার দ্য ডেইলি স্টারকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিকেল সাড়ে ৩ টায় ৪-৫ জন নারী নিজেদেরকে ভোটার দাবি করে ৫ নম্বর বুথে প্রবেশ করেন। এরপর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারেন। তারা ৪টি ব্যালটে মোরগ প্রতীক এবং ৯টি ব্যালটে তালা প্রতীকে সিল মারে। এ সময় ১৫ মিনিট ভোটদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সিল মারা ব্যালট পেপারগুলো বাতিল করা হয়েছে।
এ ঘটনার আগেও বেশ কয়েকজন নারী ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করে এ চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, মোরগ প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী সফিকুল ইসলাম মোল্লা ও তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মো. রাসেলের সমর্থকরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে।
এদিকে, সকাল ১০ টায় হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী ব্রিজে অভিযান পরিচালনা করে ৬টি শটগান, ৫৫ রাউন্ড গুলি, ১০ রাউন্ড সিসা, একটি চাপাতি ও ২টি ডিবি পুলিশের পোশাক জব্দ করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল মনির দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে হোসেন্দী ব্রিজের ওপরে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬টি শটগান, ৫৫ রাউন্ড গুলি, ১০ রাউন্ড সিসা, একটি চাপাতি ও ২টি ডিবি পুলিশের পোশাক জব্দ করা হয়। নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছিল তারা।'