নোয়াখালীতে খাল সংস্কারের নামে কৃষিজমি নষ্ট করার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় খাল সংস্কারের নামে কৃষিজমি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী বলছে, ঠিকাদার খালের এক পাড়ের মাটি কেটে কৃষি জমির ওপর মাটি ফেলছে। প্রয়োজন না থাকার পরও দুই বছরে দ্বিতীয় বারের মতো খালটি সংস্কার করা হচ্ছে।

তবে ঠিকাদার বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী খাল খনন করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা কার্যালয়ের সূত্রগুলো জানায়, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলায় জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল সংস্কার করা হচ্ছে। চারটি উপজেলায় ২৮৪ কিলোমিটার খাল সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ কোটি টাকা। ওই প্রকল্পের আওতায় গত সপ্তাহে চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে নোয়াপাড়া থেকে বদলকোট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ রামচন্দ্রপুর খাল সংস্কার শুরু হয়েছে।

স্থানীয় নাথপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ হোসেন রুবেল অভিযোগ করে বলেন, খালের তলদেশ খনন না করে শুধু খালের দক্ষিণ পাশের মাটি কেটে কৃষি জমির ওপর ফেলা হচ্ছে। খালের প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এলাকাবাসী মো. শাহাজাহান বলেন, কিছুদিন পর বৃষ্টি শুরু হলে পাড়ে রাখা মাটি ধসে আবার খালেই পড়বে। এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হবে।

নাথপাড়া গ্রামের কালুমিয়া (৭০) অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছরের মধ্যে এ খালটি দুই বার খনন করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে খাল খনন করে একটি মহল সরকারের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

খাল খননের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিন ট্রেডার্সের ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী আমরা খাল খননের কাজ করছি। এখানে আমাদের কোনো স্বার্থ নেই।

খাল খননের আগে তিনি এলাকায় মাইকিং করেছেন বলে দাবি করলেও এলাকাবাসী বলছেন, কেউ মাইকিং করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার চারটি উপজেলায় জলাবদ্ধতা দূর করতে চাটখিলে খনন কর্মসূচি চলছে। তলদেশ খনন না করে পাড়ের মাটি কাটার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর ক্ষতি না করে খাল খনন করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলব।

এ ব্যাপারে নোয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রোকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, চেষ্টা করা হবে ফসলি জমির যেন ক্ষতি না হয়। স্থানীয় লোকজন যদি খাল খনন না চান তাহলে খনন হবে না। এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুর থেকে খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।