রংপুর থেকে ছাড়ছে না ঢাকাগামী বাস

পরিবহন ধর্মঘটের নির্দেশ কারা দিয়েছে জানেন না শ্রমিক নেতারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনাজপুর

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সড়কে হয়রানি রোধসহ ৫ দফা দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন রংপুরের পরিবহন শ্রমিকরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচস্ট্যান্ডের শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করলেও নেতারা বলছেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

তবে কর্মবিরতির আওতামুক্ত রয়েছে এনা পরিবহন এবং শাহ ফতেহ আলী পরিবহন।

শ্রমিকরা জানান, নামকরা ২-৩টি কোম্পানি তাদের পরিবহনের চালকদের ১ হাজার ৯৫০ টাকা, সুপারভাইজারদের ৯০০ টাকা ও চালকের সহকারীদের (হেলপার) ৮০০ টাকা বেতন দেয়। অন্য সব পরিবহনের স্টাফদের বেতন-ভাতা প্রায় অর্ধেক। এই বৈষম্য দূর করে সমভাবে বেতন-ভাতা দেওয়ার দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ বলেন, হঠাৎ করে রাতারাতি কাদের নির্দেশে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে তা আমার অজানা। এই নির্দেশদাতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিন দুপুরে কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ধর্মঘট উপেক্ষা করে রংপুর থেকে এনা পরিবহন ও শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কয়েকটা বাস চলাচল করছে।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে শ্রমিকরা জানান, ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্ততায় মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই সিদ্ধান্ত আসবে।

সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন শ্যামলী পরিবহনের হেলপার মুমিন, সোহেলসহ আরও অনেকে।

পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের বাসস্ট্যান্ডে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

আব্দুল মতিন নামে এক যাত্রী বলেন, সকাল থেকে ঘুরছি, কোনো বাস যাচ্ছে না। অসুস্থ বাবাকে দেখতে এসেছিলাম। ৫ দিনের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা কর্মস্থলে ফেরার কথা। সেটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কামারপাড়া ঢাকা কোচস্ট্যান্ড উপকমিটির সাধারণ সম্পাদক মিঠু বলেন, আমার জানা মতে শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়নি। তবে মালিকরা কেন পরিবহনগুলো বন্ধ রেখেছে সেটি আমরা জানি না।