‘এখন একটু দেশের দিকে নজর দেন’
দেশের পোল্ট্রি চাষিদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'দেশের পোল্ট্রি চাষিদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রয়োজন। নীতিমালা না হলে সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে শিক্ষিত যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। তা হতে দেওয়া যাবে না।'
তিনি বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৩ বছর। আজকে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পুষ্টি। যেটি জোগাড় করছেন প্রান্তিক চাষিরা ও খামারিরা। এখানে বড়দের কোনো অবদান নেই।'
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'দেশের ২২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। আর আপনি ৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে ১০ লাখ মানুষের জনসমাবেশ করছেন এমন একটা সময়ে, যখন দেশের দুই কোটি পরিবার ঈদ করতে পারবে না। এর সঙ্গে বন্যায় আরো ৫০ লাখ মানুষ যোগ হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আপনি এতো বড় কাজ করতে যাবেন না। এখন একটু দেশের দিকে নজর দেন। চাষি, খামারি ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি নজর দেন। এরা আপনাকে বাঁচাবে। তা না হলে তাদের মতো আপনাকেও ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট ভোগ করতে হবে।'
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান বাশারের সভাপতিত্বে ও শাহিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, পরিবেশবিদ দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব কাজী মোস্তফা কামাল। সভায় তিনি খামারিদের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো-কোনো হ্যাচারির মালিক বাণিজ্যিকভাবে রেডি ব্রয়লার মুরগী ও লেয়ার মুরগী পালতে পারবে না। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
খাদ্যের দাম কমাতে হবে। খাদ্য ও বাচ্চার মান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে।
খামারিদের বিদ্যুৎ বিল শিল্প হারে নিতে হবে।
২০১০ সালের মার্চে সরকার নির্ধারিত ১ দিনের ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চার দাম ৩০ ও ৩২ টাকা হারে দিতে হবে।
রানীক্ষেত, গাম্বরো ও বার্ডফ্লু জাতীয় জটিল রোগের টিকা ও ওষুধ বিনামূল্যে খামারিদের দিতে হবে।
সব খামারিদের একটি সমিতির আওতায় এনে জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ভর্তুকি দিতে হবে। অথবা ইন্সুরেন্সের আওতাভুক্ত করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রত্যেক উপজেলার প্রধান বা বড় বাজারগুলোতে খামারিদের সমিতির নামে ২-৩ শতক জায়গায় মুরগী ও ডিম বিক্রির দোকান নির্মাণ করে দিতে হবে।