‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমার জন্মদিনই কী আর মৃত্যুদিনই কী’

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

'জাতির পিতা একদিন হেসে বলেছিলেন আমার জন্মদিনই কী আর মৃত্যু দিনই কী। যতদিন বাংলার প্রতিটি শিশুর নিরাপদ আশ্রয়, মাথা গোজার ঠাঁই, পরনের বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে না পারব ততদিন আমার এই শিশুদের প্রতি যে কর্তব্যের ক্ষুধা তা মিটবে না।' জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালনের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।

আজ বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি বলেন, 'আমি শুনেছি একটি আলোচনা সভায় জাতির পিতার সান্নিধ্যে যারা ছিলেন তারা পার্লামেন্টে বলেছিলেন যে একবার তারা তার ( বঙ্গবন্ধুর) জন্মদিন পালনের জন্য গিয়েছিলেন। তখন তিনি ম্লান হেসে এ সব কথা বলেছিলেন।'

'এই শিশুদের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ড দেওয়ার পরপরই এই দেশকে যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, এই ভূখণ্ডকে শিশুদের বাসযোগ্য করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগেই আততায়ীরা, ঘাতকেরা যারা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চাকাকে ইতিহাসের হৃদয়কে কাদায় আটকে দিতে চেয়েছিল এবং বাংলাদেশকে এক জায়গায় আটকে রাখতে চেয়েছিল, পেছনে টেনে ধরতে চেয়েছিল তারা ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে,' বলেন মতিয়া চৌধুরী।

'সেদিন আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা ও রেহানা দেশের বাইরে ছিলেন বলে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। খুনিরা ভেবেছিল যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই ইতিহাসের চাকাকে তারা স্তব্ধ করতে পারবে। কিন্তু তারা সফল হয়নি।'

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, '৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ৮১ সালে আমরা আওয়ামী লীগের কর্মীরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে এসেছিলাম। সেদিন ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি (শেখ হাসিনা) যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কবি সুকান্তের ভাষায়, "এ পৃথিবীকে শিশুদের বাসযোগ্য করে যাব" সেই অঙ্গীকার তিনি রক্ষা করেছেন।'

'আজকে বাংলাদেশে শিশুরা, তাদের অভিভাবকেরা, মা-বাবারা দুবেলা দুমুঠো খেতে পারছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে মাথা গোজার ঠাঁই পাচ্ছে, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হচ্ছে, এই কাজগুলো তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে করেছেন,' যোগ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে সিআরপির ৩ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ ব্যাগ, বই, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়।