বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে ৪০ কিলোমিটার যানজট

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সৃষ্টি হওয়া যানজট আজ শনিবারও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে যানজট রয়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে ঈদে ঘরমুখী লাখো মানুষ।

যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোরাই পর্যন্তই বিস্তৃত হয়েছে এই যানজট। তবে, সকাল ৯টার পর থেকে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

tangail3_ds.jpg
দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ। ছবি: মির্জা শাকিল/স্টার

আজ শনিবার সকাল ৮টায় মহাসড়ক পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে টাঙ্গাইলের বাওইখোলা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শত শত যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। এসব যানবাহনে ভ্রমণকারী হাজারো যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ পথযাত্রায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয়র অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা বেশি সংকটজনক।

সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, গতকালের মতো আজও সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। রাতে এক পর্যায়ে এই যানজট সেতুর ওপরেও চলে আসে। এর ফলে বারবার বন্ধ হয়ে যায় সেতুর টোল আদায়। তবে সকালের দিকে এসে সেতুর ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে গাড়িগুলো পার হতে শুরু করেছে। কিন্তু, সেতুর উভয় প্রান্তে তীব্র যানজট অব্যাহত রয়েছে।

tangail1_ds.jpg
দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ। ছবি: মির্জা শাকিল/স্টার

যাত্রীরা জানান, তারা দুর্ভোগে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এই পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তাও তারা নিশ্চিত নন।

আসাদুজ্জামান নামে সিরাজগঞ্জগামী এক যাত্রী বলেন, 'গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকার কল্যাণপুর থেকে রওনা হয়ে আজ সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তের সল্লায় জ্যামে আটকে আছি। কখন বাড়ি ফিরতে পারব, সেটা জানি না। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক পথযাত্রার অভিজ্ঞতা।'

tangail2_ds.jpg
রাতে সেতুর ওপরেই গাড়ির যানজট ছিল। ছবি: মির্জা শাকিল/স্টার

মো. রকিব নামে এক যাত্রী জানান, গতকাল রাত ৮টায় ঢাকার উত্তর বাড্ডা থেকে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি পিকআপে করে গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা হন। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি টাঙ্গাইলের ক্ষুদিরামপুরে যানজটে আটকে আছেন।

'আমার স্ত্রী ও শিশুরা খুব কষ্টে আছে। গাড়ি থেকে নেমে যে কোথাও যাব, সে উপায়ও নেই। ঈদে আমাদের বাড়ি যাওয়ার সাধ মিটে গেছে', যোগ করেন তিনি।

elenga-highway_ds.jpg
এলেঙ্গা মহাসড়কে যানজটের দীর্ঘ সারি। ছবিটি সকাল ৬টায় তোলা। ছবি: মির্জা শাকিল/স্টার

এ বিষয়ে জানতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করলেও তারা ধরেননি।