বাঁধ নির্মাণে অনিয়মকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে: সুনামগঞ্জে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, 'হাওরে বাঁধ নির্মাণে কারও অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরে ভেঙে যাওয়া ডুবাইল বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উপমন্ত্রী বলেন, 'রোববার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে দেবো। তারা এখানে সুষ্ঠু তদন্ত করবে। সেখানে দোষী যে পর্যায়ের কর্মকর্তাই হোক, তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।'
তিনি বলেন, 'সুনামগঞ্জে স্থায়ী প্রকল্পের পরিকল্পনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। পর্যায়ক্রমে পুরো হাওর এলাকা স্থায়ী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসব।'
'তাহলে কৃষকরা হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন,' বলেন তিনি।
তিনি জানান, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হবে।
এ সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. ফজলুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত শুক্রবার থেকে ভারতের মেঘালয়ে ব্যাপক বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ৬৪৪ হেক্টরের মতো বোরো আবাদ পানিতে তলিয়েছে।
তবে হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের হিসাব মতে, অন্তত ৮ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলায় এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টন।
এই বিপুল পরিমাণ ফসল বাঁচাতে সুনামগঞ্জে ৭২০টি প্রকল্পের আওতায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।