বাংলাদেশ বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার দেশ: মালয়েশিয়ার মন্ত্রী
মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি বাংলাদেশে পাম অয়েল, রাবার ও কাঠের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির প্ল্যান্টেশন ইন্ডাস্ট্রিজ ও কমোডিটি মন্ত্রী জুরাইদা কামারউদ্দিন।
বাংলাদেশে সফররত মন্ত্রী জুরাইদা আজ শুক্রবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পাম তেলের আমদানি গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় এ বছর জানুয়ারিতে ১৩ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে, কাঠ ও রাবারসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানির পরিমাণও বেড়েছে।'
মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বার্ষিক দেড় বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
মন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ক্রমবর্ধমান বাজার এবং আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের সুযোগ আছে। এটা রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও একটি ভালো সুযোগ।'
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুঁজতে ভারত সফরের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি জুরাইদা বাংলাদেশে আসেন।
তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মালয়েশিয়ায় ফিরে তিনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশকে লাভজনক বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করবেন বলে জানান।
মন্ত্রী জুরাইদা কামারউদ্দিন বলেন, 'ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা আছে, ভারত ও চীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার আছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের নীতি যথেষ্ট অনুকূল।'
'এসব কারণে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে সহজে বিনিয়োগ করতে পারে,' যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ বর্তমানে আবাসন খাতসহ রেলপথ ও মহাসড়কে প্রচুর অবকাঠামোর কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'মালয়েশিয়ার এসব খাতে দক্ষতা আছে এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো এখানে বিনিয়োগ করতে পারে।'
'বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী এবং মন্ত্রী বলেছেন যে তাদের জমি আছে এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের হিসেবে কাজ করা যেতে পারে,' বলেন তিনি।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া কাঠ, রাবার ও পাম তেল রপ্তানি করতে পারে এবং এগুলো এখানে প্রক্রিয়াজাত করা যেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় টেক্সটাইল, জুতা ও চামড়াজাত অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করতে পারে।
চলতি বছর জুনে মালয়েশিয়া কৃষি-পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করবে এবং সেখানে অংশ নিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলো পরস্পরের মধ্যে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার সম্ভাবনাগুলো খুঁজে বের করতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্ল্যান্টেশন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং কমোডিটি মন্ত্রী।
মালয়েশিয়া কবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার খুলতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'খুব শিগগির এটি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় তা বলবে।'
তিনি জানান, তার মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের কল্যাণের দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু নিয়োগ নয়।
শ্রমিক নিপীড়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জুরাইদা বলেন, 'আমার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে নিপীড়নের তেমন খবর পাইনি।'