বাউফলে আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে ইজারা ছাড়াই টোল আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী লঞ্চঘাট সংলগ্ন নিমদী খেয়াঘাটে ইজারা ছাড়াই টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক মো. শামীম ইজারা ছাড়াই নিমদী খেয়াঘাট থেকে টোল আদায় করছেন।

স্থানীয়রা জানান, আ. লীগ নেতা মো. শামীম নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ. লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম ফারুকের ভাগ্নে। মামার প্রভাবেই তিনি অবৈধভাবে ওই খেয়া চালাচ্ছেন। এতে সরকার বছরে ৩ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী তেতুলিয়া নদীর ওই খেয়াঘাট দিয়ে ২ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছাড়াও ভোলা জেলার কিছু অংশের মানুষ ওই খেয়াঘাট ব্যবহার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, খেয়ার মাঝি স্বপন মৃধা কাছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় সাব-ইজারা দিয়েছেন শামীম। গত বছরও নাজিরপুর ইউপি থেকে ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় সাব-ইজারা দিয়েছিলেন শামীম। যা এলাকার প্রায় সবাই জানেন।

খেয়ার মাঝি স্বপন মৃধা সাব-ইজারার বিষয়টি অস্বীকার করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাব-ইজারার তথ্যটি সঠিক নয়। তবে, খেয়া চালানোর জন্য প্রতিদিন হয় মো. শামীমকে ১ হাজার করে টাকা দিতে হয়।'

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ আলম রাড়ি বলেন, 'প্রতিদিন এই খেয়াঘাট পার হয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াতে ২০ টাকা টোল দিতে হয়। মোটরসাইকেল পার করতে লাগে ৫০ টাকা।'

তিনি আরও বলেন, 'এই খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিক মানুষ পারাপার হন।'

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আ. লীগ নেতা শামীম সাব-ইজারা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, 'আমি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের কাছ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার টাকায় খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছি। যা সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা জানেন।'

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ. লীগ নেতা ইব্রাহিম ফারুক বলেন, 'আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে খেয়াঘাটটি ইজারা দিয়েছি। পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যান আ. লতিফ মোল্লাও একই লোককে ইজারা দিয়েছিলেন। যার মেয়াদ এখনও বহাল আছে বলে আমি জানি। এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।'

জানতে চাইলে সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন, 'আমি এ খেয়াঘাটের ইজারার বিষয়ে কিছুই জানি না।'

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি নাজিরপুর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আ. লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আমির হোসেন ব্যাপারী। কিন্তু, শপথ নেওয়ার আগেই গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। পরে গত ৪ এপ্রিল ইউপি সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. রুবেল তালুকদার। তিনি এখন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুবেল তালুকদার বলেন, 'খেয়াঘাটটি এখানকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইজারা না দেওয়ায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।'

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ইজারা শাখা থেকে জানা গেছে, প্রতি বছর চৈত্র মাসে হাট-বাজার ও খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয় এবং তা বৈশাখ মাস থেকে কার্যকর হয়। তাই জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন বলেন, 'আমি এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। তবে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'