বিচারকের গাড়িকে ধাক্কা, স্ত্রীর সেলাই মেশিন বিক্রি করে দিতে হলো ক্ষতিপূরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় বিচারকের সরকারি গাড়িতে আঁচড় লাগে। এতে গাড়ি মেরামতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ৪ দিন আটকে রাখা হয় অটোরিকশাটি। আজ বুধবার ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেটি ছাড়িয়ে আনেন অটোরিকশা চালক মো. হাবিবুর রহমান।

গত ২ এপ্রিল সকালে মুন্সিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া রহমানের সরকারি গাড়িতে আঁচড় লাগে। আদালতের নাজির মো. আবু হানিফ গাড়ি মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং অটোরিকশাটিকে আটকে রাখেন।

পরে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে গাড়ি ছাড়া হবে বলে জানান মো. আবু হানিফ। সেদিন অটোচালক হাবিবুর স্ত্রীর সেলাই মেশিন বিক্রি করে ৫ হাজার টাকা দেন। আজ ঋণ করে বাকি ৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর দুপুরে গাড়িটি ফেরত পান।

নাজির মো. আবু হানিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, 'অটোচালকের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় বিচারকের গাড়ি মেরামতের জন্য সমঝোতা করে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলাম। তিনি প্রথমে ৫ হাজার টাকা দিতে পারলেও বাকি টাকা না দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তদবির শুরু করে। এর মধ্যে ওই চালক পরিবারসহ বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আরও রেগে যান। আজ বুধবার বাকি টাকা দেওয়ায় গাড়ি ফেরত দেওয়া হয়েছে।'

অটোরিকশাটি এ ৪ দিন থানা হেফাজতে ছিল বলে জানান তিনি।

অটোরিকশা মালিক মো. হাবিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তেল নেওয়ার জন্য বিচারকের গাড়িটি অপেক্ষা করছিল। আমার অটোরিকশা গাড়িটির গা ঘেঁষেই ছিল। হঠাৎ গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায়।'

তিনি বলেন, 'আমি সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির ভেতরে থাকা বিচারকের কাছে হাত জোর করে মাফ চাই। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলের পাশে থাকা পুলিশকে গাড়িসহ আমাকে ধরে নিয়ে যেতে বলেন।'

'পুলিশ আমাকে সদর থানায় নিয়ে যায়। সেদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেল হাজতে ছিলাম। তারপর আমার ভাবি এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। কিন্তু অটোরিকশাটি থানায় ছিল,' বলেন হাবিবুর।

তিনি আরও বলেন, 'আদালতের নাজির মো. আবু হানিফ গাড়ি মেরামতের জন্য প্রথমে ৫০ হাজার টাকা চান। পরে আমার পরিবারের অবস্থা জানার পর ১০ হাজার টাকা চান।'

আজ নাজির মো. আবু হানিফের কাছে টাকা দেওয়ার পর তিনি কোর্ট পুলিশের সহায়তায় থানা থেকে গাড়িটি ফিরে পেতে সহায়তা করেন বলে জানান হাবিবুর।

হাবিবুরের স্ত্রী রিমা ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানান, 'কয়েকমাস আগে জমি বিক্রির টাকার একটি অংশ দিয়ে সেলাই মেশিন কিনেছিলাম। অটোরিকশা ফেরত পাওয়ার জন্য ৬ হাজার ২০০ টাকায় সেটি বিক্রি করে দিয়েছি। এখন গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তির মধ্যে আছি। ক্ষতিপূরণ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করায় এবং গাড়িটি ফেরত পাওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিচারককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।'

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মুন্সিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রোকেয়া রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও, তিনি তা রিসিভ করেননি।