বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে—এমন অবস্থা চাই না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা মামলজট কমিয়ে আনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। আমরা এমন অবস্থা চাই না। মানুষ যেন ন্যায্য বিচার পায় এবং ন্যায্য বিচার যেন অতি দ্রুত পায়, সেই ব্যবস্থা চাই।'
আজ বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের ব্যবহারের জন্য ১৬টি মাইক্রোবাসের চাবি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, 'অতীতে অনেক জেলা জজ রিকশায় চড়ে আদালতে আসা-যাওয়া করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই অবস্থার পরিবর্তন এনেছে। বিচারকদের মর্যাদা রক্ষায় যেটা করা দরকার সেটা করে দিচ্ছে। মানসম্পন্ন গাড়ি দিচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণের কাছাকাছি বিচারকদের আবাসনের ব্যবস্থা করা জন্য প্রকল্পও নেওয়া হচ্ছে।'
মানুষ এখনো মনে করে আদালত হচ্ছে তার বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। মানুষের সেই আশ্রয়স্থল যেন নিশ্চিত থাকে তেমনভাবে বিচারকদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, 'জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড-এ কথাটি যেমন সত্য, তেমনি জাস্টিস হারিড ইজ জাস্টিস বারিড-এ কথাটিও সত্য। সে কারণে এর একটি ব্যালান্স বা ভারসাম্য আনা খুব প্রয়োজন।'
তিনি বলেন, 'আঠার বা উনিশ শতকে যে ফৌজদারি বা দেওয়ানি কার্যবিধি লেখা হয়েছিল সেখানে কিন্তু অনেক সংশোধন করা সম্ভব এবং সেখানে বিচারের জন্য যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, বিশেষ করে দেওয়ানি কার্যবিধিতে সেই সময় এখন কমিয়ে আনা যায়। দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংশোধন করে সময় কমিয়ে এনে দেওয়ানি মামলা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় সেই চিন্তা করছে সরকার।'
শিগগিরই এর একটি রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে এবং এটা করতে পারলে বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।