'বিশ্বের সেরা নতুন ভবনে'র স্বীকৃতি পেল সাতক্ষীরার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস- রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে 'বিশ্বের সেরা নতুন ভবন' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। ভবনটির নকশা করেছেন স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। তার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান 'আরবানা' ভবনটি নির্মাণ করেছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারের 'বিশ্বের সেরা নতুন ভবন' ২০২১ সালের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, জার্মানির বার্লিনের জেমস-সায়মন-গ্যালারি এবং ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের লিলে ল্যাঞ্জেব্রো সেতু। তালিকায় থাকা অন্যান্য ভবনকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। কম খরচে জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনটির নকশা করা হয়েছে।

রিবা পুরস্কার বিজয়ী হাসপাতালটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরায় অবস্থিত।

riba_2.jpg
ছবি:কাশেফ চৌধুরী/আরবানা

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ স্থাপনার বিশেষত্ব হচ্ছে, স্থানীয় প্রকৌশলীরা স্থানীয়ভাবে তৈরি নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ভবনটি গড়েছেন। ভবনটিকে ঘিরে রয়েছে ছোট খাল। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকায় ভবনটিতে গরমের সময় আশেপাশের আঙ্গিনা ঠান্ডা থাকে। ভবনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রচুর আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। নিশ্চিত করা হয়েছে বিদ্যুতের সর্বনিম্ন ব্যবহার। হাসপাতালের নিরাপত্তা, সহজে যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাশেফ বলেন, 'যখন কেউ অসুস্থ হয় বা কারো যত্নের প্রয়োজন হয় তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো তার মানসিক অবস্থা। আমি মনে করি চিকিত্সার সময় আপনি যে ধরনের জায়গায় বাস করেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতাল থেকে জলাশয়, গাছ, পাখির শব্দ, আলো-বাতাস এগুলো নিরাময়ের দিকে অনেক দূর এগিয়ে যায়।'

riba_1.jpg
ছবি:কাশেফ চৌধুরী/আরবানা

পুরষ্কারের খবরে স্থপতি কাশেফ চৌধুরী বলেন, 'এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, এই জন্য যে রিবা এবং এর জুরিরা বিশ্বের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে একটি প্রকল্পকে চিহ্নিত করে বিশ্বের কেন্দ্রে তুলে এনেছেন এবং একে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করেছেন।'

এর মধ্য দিয়ে আরও অনেকেই সম্পদের সীমাবদ্ধতা নিয়েই বর্তমান বিশ্বের সংকটগুলো মোকাবেলা করে মানবিক ও প্রকৃতির প্রতি যত্নবান থেকে স্থাপত্য নির্মাণে উৎসাহিত হবে বলে আশা জানান তিনি।