বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি (দুই দেশের জাতীয় পতাকা অবনমন) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এ 'রিট্রিট সেরিমনি' অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিরি উপমহাপরিচালক ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার মো. ওমর সাদিক, সেক্টর কমান্ডার মামুন অর রশিদ ও ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট সৈয়দ মনোয়ার সিদ্দিক ও ভারতরে পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফের ডিআইজি এন চাতুরবেদি, ১৭৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার কর্নেল তাসমিকান্ত ও কর্নেল স্টাভার সিংহ।
'রিট্রিট সেরিমনি' প্যারেডে বিজিবি-বিএসএফ-এর কর্মকর্তারা ছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ উভয় দেশের জনগণ দর্শনার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শনিবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা এবং ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্তের শূন্য রেখায় রিট্রিট সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতীয়-১৭৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এই রিট্রিট প্যারেডে অংশ নেন।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা একে অপরের সঙ্গে ফুল ও মিষ্টি বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ বি এম নওরোজ এহসান ও বিএসএফের নর্থ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার-এর আইজি শ্রী অজয় সিং উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সোহরাব হোসেন, পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম ফজলে রাব্বী, বিএসএফের শিলিগুড়ি সেক্টরের ডিআইজি শ্রী পরশু রাম, ১৭৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট শ্রী হরিশ চন্দ্রসহ বিজিবি-বিএসএফ-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কমকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ হোসেন হায়দার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ ২ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
যৌথ প্যারেড শেষে বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, 'এ ধরনের অনুষ্ঠান দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে যা সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।'
মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া যৌথ রিট্রিট সেরিমনিকে স্মরণীয় করে রাখতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে স্মারক বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা ও ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্তের শূন্য রেখায় এই রিট্রিট সেরিমনির অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তখন থেকে প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় বিজিবি ও বিএসএফের রিট্রিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হচ্ছে।