ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক পরিবারের বিরুদ্ধে ৫ গ্রামের বাসিন্দার বিক্ষোভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ৫ গ্রামের মানুষ।
আজ শনিবার দুপুরে কসবা উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামে এ কর্মসূচি পালন করে বর্ণীসহ আশপাশের ৫টি গ্রামের মানুষ। মিছিল-সমাবেশে মেহারী, কালসার, বর্ণী, জমশেরপুর ও পদুয়া গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্ণী গ্রামের বাসিন্দা সামসুল হক ভূঁইয়া ও তার ছেলে সুমন হত্যা, চুরি এবং জাল টাকার কারবারসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাদের কর্মকাণ্ডে আশপাশের ৫ গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। একসময় গ্রাম থেকে বিতাড়িত হওয়া এই পরিবারের সদস্যরা এখন গ্রামে ফিরে এসে গ্রামের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে হয়রানি করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৮ এপ্রিল বর্ণী গ্রামের বাসিন্দা কাহার মিয়া ও তার ছেলে রুবেল মিয়া, মোজাম্মেল হক এবং কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘর ভাঙচুর এবং সামসুল হকের স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে এমন ঘটনা সাজিয়ে থানায় মামলা করা হয়। মামলা সাজাতে সামসুল নিজেই ঘর ভেঙ্গে ফেলেন এবং তার স্ত্রী আহত হওয়ার নাটক সাজান।
দ্রুত এ সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তারা সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশে সামসু ও তার পরিবারের অপকর্মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সামসুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আর আমার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলাটি বাদীর সঙ্গে আপস হয়ে গেছে। এখন গ্রামের কিছু প্রভাবশালীর কারণে বাড়িতে থাকতে পারছি না।'
সামসুল হকের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'থানায় অভিযোগ করার পর ঘটনা তদন্ত করতে আমি বর্ণী গ্রামে গিয়েছিলাম। গ্রামে গিয়ে সামসুলের ঘর ভাঙ্গা পাওয়া গেছে।'
আজ শনিবার বর্ণী কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম, বর্ণী ক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলমসহ আরও অনেকে।