মহানায়িকার জন্মদিনে পাবনায় নেই কোনো আয়োজন
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী প্রয়াত সুচিত্রা সেনের ৯১তম জন্মদিনে তার জন্মস্থান পাবনায় বিশেষ কোনো আয়োজন নেই এবার।
প্রতি বছর পাবনার স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মহানায়িকার জন্মদিন পালনে উদ্যোগী হয়। তবে পবিত্র রমজান মাসে সেই উদ্যোগে এবার ভাটা পড়েছে। এ ছাড়া বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে পাবনা সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি জাকির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোজার কারণে এ বছর সুচিত্রা সেনের জন্মবার্ষিকীতে কোনো আয়োজন করা সম্ভব না হলেও তার পৈতৃক বাড়িতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন ভক্তরা।'
গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে কোটি বাঙালির হৃদয়ে ঝড় তুলে সুচিত্রা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন পর্দার অন্তরালে। এভাবে সত্তরের দশকের শেষ ভাগ থেকে পরের প্রায় ৩ যুগ নিজেকে আড়াল করে রেখে ২০১৪ সালে তিনি বিদায় নেন জীবনের জলছবি থেকেও। সেইসঙ্গে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের এক সোনালী যুগের অবসান ঘটে।
১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় নানার বাড়িতে সুচিত্রা সেনের জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পাবনা শহরের গোপালপুরে পৈত্রিক বাড়িতে। সপরিবারে পাবনা ছেড়ে যাওয়ার সময় সুচিত্রা সেন ছিলেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তার বাবা করুনাময় দাশগুপ্ত পাবনা পেরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহিনী। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে সুচিত্রা সেন ওরফে রমা ছিলেন তৃতীয়।
২০১৪ সালে সুচিত্রার মৃত্যুর পর আদালতের নির্দেশে তার পৈতৃক বাড়িটি দখলমুক্ত করে তা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে সেখানে একটি সংগ্রহশালা হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো তৈরি হয়নি।
এ ব্যাপারে হতাশার কথা জানান সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি জাকির হোসেন।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি একটি পরিপূর্ণ সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একাডেমি ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। শুরু হয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ।
শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী প্রকৌশলী সুখদেব চন্দ্র দাস ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী অর্থবছর থেকেই সংগ্রহশালা গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে।'
একাডেমির সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকর্তা (কালচারাল অফিসার) মারুফা মঞ্জুরি খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সুচিত্রা সেনের বাড়ি সংলগ্ন জায়গা অধিগ্রহন করতে হবে। এ বছরের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন।