‘মাঠ ধ্বংস হলে শুধু আমার নয়, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ফুসফুসেরও ক্ষতি হবে’
রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা খেলার মাঠে পুলিশের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ শ্রমিকরা যখন সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন ঠিক তখন সেখানে পরিবেশবাদী সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও শিক্ষার্থীরা সীমানা প্রাচীরের পাশে গাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান।
তারা কলাবাগান এলাকার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (২০১৫-২০৩৫) প্রস্তাবিত জমি ব্যবহার অঞ্চলের মানচিত্রের প্রতিলিপিসহ একটি ব্যানার স্থাপন করেন। ওই মানচিত্রে খেলার মাঠটি একটি খোলা জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা আছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সরকারকে হুশিয়ারি দেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যদি খেলার মাঠে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায় তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনে যাবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এখানে ২টি বিষয় খুবই উদ্বেগজনক- একটি হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি থানা দরকার। কিন্তু, তারা যদি খেলার মাঠে থানা স্থাপন করতে পারে তাহলে এখানে-সেখানে খেলার মাঠ দখল করবে এবং বাংলাদেশে কোনো খেলার মাঠ থাকবে না।
তিনি বলেন, 'একটি পরামর্শ এসেছে যে- শিশুরা কলাবাগান খেলার মাঠে খেলতে পারবে। কিন্তু, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাড়ি বা বাইক আছে তাই তারা সহজেই তাদের সন্তানদের ওই মাঠে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু, এই এলাকার নতুন প্রজন্ম কোথায় খেলতে যাবে?'
খেলার মাঠের একাধিক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে রাশেদা চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত খেলার মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো এবং গত ২ বছর করোনা মহামারির কারণে কোনো ঈদের জামাত হয়নি।
তিনি বলেন, 'থানা নির্মাণের জন্য ঈদ জামাতের জমিও দখল করে রেখেছে তারা।'
তিনি বলেন, 'আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বেতন আসে সরকারের তহবিল থেকে এবং সরকারের সেই কোষাগার দেশের মানুষের করের টাকায় চলে। তাই করদাতা হিসেবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব এখানে থানা নির্মাণ বন্ধ করে সবার জন্য খেলার মাঠ উন্মুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছি।'
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'খেলার মাঠটি এই এলাকার ফুসফুস এবং এখানকার বয়স্কদের হৃদপিণ্ড। খেলার মাঠ ধ্বংস হলে এটি শুধু আমার ফুসফুসেরই ক্ষতি করবে না- মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ফুসফুসেরও ক্ষতি করবে।'
তিনি পরামর্শ দেন, খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি ২৫ তলা ভবন আছে। এখান থেকে জায়গা নিন- যদি সম্ভব না হয় তাহলে ডিসির বাড়ি থেকে কিছু জায়গা দিন বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি থেকে একটি অংশের জমি দিয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণ করুন। এতে তার সুনাম বাড়বে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এখানে পর্যবেক্ষণে আসতেন তাহলে তিনি বুঝতে পারবেন পুলিশ ভুল করেছে। খেলার মাঠ রক্ষা করতে না পারলে আমাদের শিশুসহ সবার ক্ষতি হবে, এমনকি জাতির ক্ষতি হবে।
খেলার মাঠ বাঁচানোর আন্দোলনে অংশ নেওয়া পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানায়, গত ৮ বছর ধরে তারা এই মাঠে খেলছে।
সে বলেছে, 'তারা আমাদের কলাবাগান মাঠে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, কিন্তু এটা আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে এবং সেখানে খেলার সুযোগ পাওয়াও সহজ নয়।'
মাঠ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী সৈয়দা রত্না জানান, যদি খেলার মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে তাহলে তিনি সব কষ্ট ভুলে যাবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা খেলার মাঠটি সংরক্ষণে সক্ষম হবেন।