রাঙ্গামাটিতে বিজু উৎসবের আগে তারা ও শুটকির চাহিদা বেড়েছে
কাল থেকে রাঙ্গামাটিতে শুরু হবে পাহাড়িদের বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষ বরণের উৎসব বিজু উৎসব। উৎসবের আগে কাঁচাবাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে, বেশিরভাগ ক্রেতা কিনছেন তারা ও শুটকি।
কারণ, এই উৎসবে চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের অন্যতম হচ্ছে পাজন তোন (অর্থাৎ পাজন তরকারি)। মূলত অনেকগুলো সবজি সংমিশ্রণে এটি রান্না করা হয়। যেমন- তারা, কাঁঠাল, আলু, হাঙর শুটকি বা শুটকি, শুকনা মূলা, শুকনা শিমুল ফুল ইত্যাদি একসঙ্গে রান্না করা হয়। পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে এসময় পাজন রান্না থাকতেই হবে।
পাজনে শুটকি এবং তারা দরকারি হওয়ায় উৎসবকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে এগুলোর দামও বেড়েছে। সাধারণত তারা প্রতি বন্দা (আঁটি) ১০-২০ টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু, বিজু উৎসবে চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রেতারা প্রায় ৪ গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন।
ভারত সীমান্তবর্তী টেকা থেকে বনরূপা বাজারে তারা বিক্রি করতে আসা দীপায়ন চাকমা বলেন, 'তারা জঙ্গলের সবজি। আর এটি সংগ্রহে শুধু নৌকা ভাড়াটুকু দিলেই হয়। এছাড়া, আর তেমন কোনো খরচ নেই। সুতরাং লাভ বেশি। প্রতিটি বন্দায় তারা থাকে ৭-৮টি এবং গতকাল প্রতি বন্দা (আঁটি) বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা দরে। কিন্তু, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল প্রায় ২৩০ বন্দা নিয়ে এসেছিলাম এবং সবগুলো বিক্রি হয়।'
বরকল থেকে বনরূপা বাজারে অন্যান্য শাক-সবজির পাশাপাশি ১৮০ বন্দা তারা নিয়ে এসেছেন পবন চাকমা। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'প্রতি বন্দা ৬০-৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি।'
বনরূপা বাজারে শুটকি ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন বলেন, 'গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি ভালো হয়েছে। গত ৫দিন ধরে বিক্রি বেশি হচ্ছে। বলতে পারেন, প্রতিদিন লাখ টাকার বেশি বিক্রয় করেছি।
বনরূপা বাজারে হাঙর শুটকি ও গোন্দি শুটকির চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।
যুগ যুগ ধরে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নানা রকমের খাবার-দাবার, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে উৎসবটি পালন করা হয়। এই উৎসবটি পাহাড়ে এক এক জনগোষ্ঠীর কাছে আলাদা আলাদা নামে পরিচিত। যেমন- বিজু, বিহু, বিসু, বৈসু, চাংক্রান, সাংগ্রাই এবং সাংলান।