শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের জামিন না হওয়ায় ব্লাস্টের উদ্বেগ
মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
এ ছাড়া, বারবার আবেদন করার পরও হৃদয় মণ্ডলের জামিন না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্লাস্ট।
আজ শনিবার ব্লাস্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত অভিযোগে ছাত্র ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে হৃদয় মণ্ডলকে দণ্ডবিধির ২৯৫ ক ধারার (কোনো শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাসে আঘাত করার অভিপ্রায়ে ইচ্ছাকৃতভাব ক্ষতিকর কোনো কাজ করা) অধীনে ২২ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর হৃদয় মণ্ডলের পলাতক হওয়ার, কারো কোনো ক্ষতি করার বা কোন তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার কোনো সম্ভাবনা নেই। এরপরও বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও তার জামিন না হওয়ায় ব্লাস্ট গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে।'
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং ব্লাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এড. জেড আই খান বলেন, 'ঘটনা সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ড যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করেই অপরাধটি আমলে নেওয়া কোনোভাবেই উচিত হয়নি। এ ছাড়া, হৃদয় মণ্ডলকে দণ্ডবিধির ২৯৫ ক ধারার অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ধারায় অপরাধের শাস্তি হিসেবে ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড আরোপের বিধান আছে। সেদিক বিবেচনায় ২৯৫ ক ধারা একটি জামিনযোগ্য অপরাধ এবং এ ধারার অধীনে গ্রেপ্তার হৃদয় মণ্ডলের জামিনে মুক্তি পাওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে।'
'হৃদয় মণ্ডলকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবির পাশাপাশি, যারা প্রত্যক্ষভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি', যোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্লাস্ট হৃদয় মণ্ডলের অবিলম্বে মুক্তি, সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, হয়রানির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান ও সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে, বারবার জামিন না পাওয়ার বিষয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট।