শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই: কাদের

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

চট্টগ্রাম মহানগরীতে পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যান তৈরি এবং মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থা কোইকার সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। এতে কোরিয়া সরকারের অনুদান ৫১ কোটি টাকা।

আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য একটি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা বা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি ম্যাস ট্রানজিট লাইন বা মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও করা হবে। এ ছাড়া, ক্রমবর্ধমান নগরীর উন্নয়ন চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে সার্কুলার রোড, রেডিয়াল রোড, মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বাস টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত স্থান, বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার সমীক্ষাও সম্পন্ন করা হবে।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ আগামী ১ বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। ওবায়দুল কাদের আরও জানান, ইতোমধ্যে কোরিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা দল বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। দলটি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামের উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর হয়েই দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। চট্টগ্রামের অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যোগ করেন সেতুমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সমীক্ষা প্রকল্পটি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় কোরিয়া সরকার এবং কোইকাকে ধন্যবাদ জানান।

পরে কোইকা প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশ সফরে আসা কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ম. নজরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।