সরকারের উদ্দেশ্য দারিদ্র্য বিমোচন নয় উপশম: পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, 'সরকারের উদ্দেশ্য দারিদ্র্য বিমোচন নয়, উপশম করা।' সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলো যে বরাদ্দ পেয়ে থাকে তা অপ্রতুল বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার 'খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক' আয়োজিত 'বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন ও নতুন দারিদ্র্যের বাস্তবতায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি' শীর্ষক এক ওয়েবিনারের অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পগুলো পর্যাপ্ত ও সর্বজনীন নয়। এ প্রকল্পগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খণ্ডকালীন, মৌসুমি কিংবা দুর্যোগকালে বা দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নেওয়া হয় এবং এগুলো সারা বছর নিরাপত্তার জন্য কার্যকরী নয়।

278141521_518048713142442_4227024558553241675_n.jpg
খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা। ছবি: সংগৃহীত

তারা বলেন, চাহিদানুযায়ী ব্যাপক পরিসরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালিত হয় না। এসব কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের বাছাই প্রক্রিয়াও সুষ্ঠু নয়।

বক্তাদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা জালের পরিধি শহরাঞ্চলে বাড়াতে হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা বলয় ঢেলে সাজানো দরকার এবং এবারের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলেও পরামর্শ দেন বক্তারা।

এতে অংশ নিতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, 'সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে একটি পরিবার বা ব্যক্তি যে বরাদ্দ পেয়ে থাকেন তা অবশ্যই অপ্রতুল। তবে এটা বৃদ্ধির চেষ্টা আমরা করছি। রেশনিং ফিরিয়ে আনা যাবে কি না, সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে।'

বর্তমান বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে এটাকে সমন্বয় করার বিষয় আছে বলে জানান তিনি।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, 'দরিদ্র মানুষকে দয়া করে বরাদ্দ বৃদ্ধি বা সহায়তা করার মনোভঙ্গি বাদ দিয়ে মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে, মানুষের অধিকার হিসেবে, দায়বদ্ধতা থেকে বাস্তবায়ন করতে হবে।'

সুশাসন নিয়ে যে সব মন্ত্রণালয় কাজ করে, তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওয়েবিনারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, 'সামাজিক সুরক্ষায় প্রতি বছর যে বরাদ্দ বাড়ছে, তার কারণ এ বরাদ্দ পাওয়ার মতো উপকারভোগীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ শাহান বলেন, 'যখন ২০১৫ সালে স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা এনএসএসএস করেছিলাম, আজকে এর সঙ্গে কিন্তু নতুন অনেক চ্যালেঞ্জ যুক্ত হয়েছে, সেগুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে। এটা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কোভিড পরবর্তীকালে দুর্যোগ সহনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।'

'সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুশাসন খুবই জরুরি' উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, 'উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়, তা আর কতদিন চলবে? এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে এ ব্যাপারে।'

'করোনার ধাক্কা দেশের অর্থনীতি যখন কাটিয়ে উঠছে, তখন আমরা টিসিবির ট্রাকের পেছনে যে হুমড়ি খাওয়া লাইন দেখতে পাচ্ছি, সেটা উদ্বেগজনক। সেটা যেন না হয়, বাজেটে এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে,' বলেন তিনি।

ওয়েবিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের মহসিন আলী।

তিনি বলেন, 'সাধারণত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নগর দরিদ্রদের লক্ষ্য করে প্রণীত হয় না, এর লক্ষ্য গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রণীত হয় শুধু দরিদ্রদের কথা মাথায় রেখে। অরক্ষিত মানুষদের কথা বিবেচনা করা হয় না।'

তিনি বলেন, 'বস্তি এলাকার দরিদ্র পরিবার, বিশেষ করে শিশুদের এর আওতায় আনতে হবে। এ জন্য বিশেষ কর্মসূচির দরকার, বাজেটে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে।'