সাভারের টিকাকেন্দ্রে আজও উপচে পড়া ভিড়, বিশৃঙ্খলা
২৬ ফেব্রুয়ারির পর প্রথম ডোজ টিকাদান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার সাভারের হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় বাড়ছিল। আজ বুধবার সেই চিত্র আরও মারত্মক আকার ধারণ করেছে।
এ অবস্থায় কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় সামলাতে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। ভিড়ের মধ্যে পড়ে ও হাতাহাতির কারণে আহতও হয়েছেন কয়েকজন।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে 'একদিনে এক কোটি' কোভিড টিকা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর দ্বিতীয় ডোজ এবং বুস্টার ডোজ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত এই ঘোষণার পর থেকে সাভারের এই টিকাকেন্দ্রে ভিড় বাড়তে থাকে। স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটিতে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪-৫ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হতো। গতকাল মঙ্গলবার সেখানে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ভোর থেকেই কেন্দ্রটিতে টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বিশৃঙ্খলা শুরু হলে প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হ্যান্ডমাইকে সবাইকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
দুপুর ১২টায় টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত রেখা আক্তার নামে এক পোশাকশ্রমিক বলেন, 'ভোর ৫টার দিকে টিকাকেন্দ্রে এসে দেখি আমার আগে অনেকেই চলে এসেছেন। আমি এখনো টিকা নিতে পারিনি। আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।'
রেখার ভাষ্য, প্রতিটি পোশাক কারখানায় আলাদা করে টিকাদানের ব্যবস্থা করলে তাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
সাভার উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, 'ভিড় বেড়ে যাওয়ার কারণে এই কেন্দ্রে আজ চিকিৎসকসহ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। ভিড় সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল ১৮ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আজ এটা আরও বাড়বে।'
সায়েমুল হুদা আরও বলেন, 'আজ এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে। প্রশিক্ষিত কর্মীরাও আছেন। এখন যদি শৃঙ্খলাটা ঠিক রাখা যায়, সবাইকেই টিকা দেওয়া সম্ভব।'
এর আগে গত রোববার এই কেন্দ্রে ১২ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়। ওই দিন টিকা না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে হয়েছিল। গতকালও অনেকে ফিরে যান।