ফেসবুক থেকে

‘সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় না থাকা জরিপে বিএনপি জামায়াতের হাত আছে’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

'উন্নয়ন হচ্ছে সেটাই বড় কথা, বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং দিয়ে কিছু যায় আসে না।'

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) বিশ্বসেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থান না পাওয়া নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের নিচে কামাল হোসেন নামের একজন পাঠকের মন্তব্য এটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারে 'সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ভারতের ৯টি, পাকিস্তানের ৩টি, বাংলাদেশের একটিও নেই' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে প্রতিবেদনটি শেয়ারের পর আড়াই হাজারের বেশি পাঠক মন্তব্য লিখেছেন। পাঠকের সেসব মন্তব্য থেকে কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো:

নাজমুল হাসানের মন্তব্য, 'এই জরিপে বিএনপি জামায়াতের হাত আছে।'

মো. মাসুদ হাওলাদার মন্তব্য করেন, 'বিশ্বসেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় না থাকলেও চাপায় বিশ্বসেরা আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি। এগুলোই তো সেরা।'

শাহ মো. জহিরুল ইসলাম লিখেছেন, 'চপ-সিঙ্গারার র‌্যাংকিং করলে প্রথম হতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।'

সঞ্জিব ভট্টাচার্য লিখেছেন, 'এটার দ্বারা কী প্রমাণিত হয়? দেশে শিক্ষার মান কমে গেছে, যোগ্য লোক সঠিক জায়গায় বসতে পারছে না। না হলে কী করে পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পেয়েছে।'

মুরাদ চৌধুরীর মন্তব্য, 'এই জরিপ পড়ালেখার মান নিয়ে হয়েছে তাই। কিন্তু যদি হলে লাঠিসোটা, চাপাতি অস্ত্র কিংবা বিশ্বে কোন দেশের শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে এগিয়ে আছে সেটার উপর হতো, আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা গর্বিত হতো বাংলাদেশের নাম সবার শীর্ষে দেখে। হয়তো এইটা নিয়ে একটা বিজয় মিছিলও বের হতো।'

মো. আবু বকর সিদ্দিক লিখেছেন, 'যতদিন এইসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় অন্ধ রাজনীতি, ভিসি নিয়োগে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ, এমনকি শিক্ষক নিয়োগে দলীয় লোকদের প্রাধান্য দেওয়া, গবেষণায় গুরুত্ব কম দেওয়া চলতে থাকবে ততদিনে আমাদের বিশ্ব র‍্যাংকিং উপরে দিকে উঠতে থাকবে মানে ভবিষ্যতে ১ হাজারের উপরে।'

জাহিদ হাসান টিপু লিখেছেন, 'সন্ত্রাস আর দখলদারিত্ব নিয়ে র‍্যাংকিং করলে আমরা প্রথম হবো।'

আশিক ওয়াশিক লিখেছেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান চর্চা করবে কখন? ছাত্ররা ছাত্ররাজনীতি আর শিক্ষকরা শিক্ষকরাজনীতি করেই তো সময় পায় না। উনাদের পড়াশোনা আর গবেষণার সময় কোথায়?'

হাবিব জিওনের মন্তব্য, 'এখন কর্তৃপক্ষ বলবে, এইসব লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হতে প্রচুর টাকা লবিং করতে হয়। আমরা এতো টাকা দিয়ে লিস্টে থাকতে চাই না।'

জীবন দাশের ভাষ্য, 'বিশ্বসেরার তালিকায় ক্ষুধা মেটে না, ক্ষুধা মেটে তেলবাজি, রংবাজি আর দশ টাকায় চা, সিঙ্গারা, সমুচায়! আমরা গর্বিত আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ টাকায় এত কিছু মিলে।'

আনিসুল ইসলামের মন্তব্য, 'দেশের শিক্ষার জন্য অশনি সংকেত! শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞজনদের নজর দেওয়া ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।'

জয়েতিলক্ষা চাকমা লিখেছেন, 'বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন বিশেষ করে গবেষণায় মনোনিবেশ তথা গবেষণা নির্ভর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা না হলে কয়েক বছর পর দুই হাজারের মধ্যেও পাওয়া যাবে না।'

কামরুল ইসলামের ভাষ্য, 'বরং দখলদারীর একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হোক। যেখানে আমাদের ধারের কাছে কেউ আসতে পারবে না।'

তপন চন্দ্র দাশের ভাষ্য, 'রাজনীতির তেলবাজি আর বিসিএস এর ভেল্কিবাজিতে বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলো র‍্যাংকিং এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে।'

নিজাম উদ্দিন লিখেছেন, 'এই তালিকায় উঠার ভিত্তিগুলো হয়তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফলো করে না। অথবা অন্য কোনো রাজনীতি থাকতে পারে। যত দূর মনে হয় ভারত বা মালয়েশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায়। যেগুলো আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে এগিয়ে থাকার কথা নয়।'

আল হাসান রাকিব লিখেছেন, 'রাজনীতি করেই তো কুল পায় না তারা। র‍্যাংকিংয়ের চিন্তা কি তাদের মাথায় আছে নাকি।'

মো. জাবের খান লিখেছেন, 'ভারতের ৯টায় আর পাকিস্তানের ৩টায় কয় জন বিসিএস ক্যাডার আছেন, জানতে চায় আমার মন।'

মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার সাজ্জাত লিখেছেন, 'তবে সেরা রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় যদি তালিকাভুক্ত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বরে থাকবে এবং বাংলাদেশের আরও ৫ থেকে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে।'

তানভির আহমেদ জুলহাসের মন্তব্য, 'রাজনৈতিক জরিপে বিশ্বে আমরা প্রথম হবো।'

শহিদুল ইসলাম লিখেছেন, 'তাতে কী? আমাদের এখানে ১০ টাকায় চপ সিঙ্গারা আছে! হেলমেট বাহিনী আছে! আরও অনেক কিছু আছে।'

তারেক আনাম লিখেছেন, 'যে দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমুচা সিঙ্গারা নিয়ে মাথা ঘামায়, সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় যে উপস্থিত আছে এটাই বড় কথা।, তালিকা দিয়ে আর কী হবে? যে দেশের শিক্ষামন্ত্রী নিজ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে চায় শুধুমাত্র নিজের আত্মীয়স্বজনদেরকে জমি অধিগ্রহণের সুযোগ দিয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক বানানোর জন্য, সে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কোথা থেকে আসবে?'

শেখ রাজ হাসানের ভাষ্য, 'যারা এমন র‌্যাংকিং করে তাদের অর্থায়ন করে কে? তাদের ইনকাম কী? এটা কি কেউ জানেন? কেউ কি জানতে চেয়েছেন? এটা হলো অসুস্থ প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বড় বড় ইউনিভার্সিটিগুলো এখানে অর্থায়ন করে, মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট পাওয়ার জন্য। এমন সুনাম দরকার নাই।'

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখেছেন, 'শিক্ষক রাজনীতি, হলরুম সংস্কৃতি, বড় ভাই, সহমত ভাই, তৈলমর্দন শিল্পকে মানদণ্ড ধরুন। দেখবেন, সিঙ্গেল ডিজিটে সবগুলোই আমাদের। কেউ আমাদের ধারের কাছেও আসতে পারবে না।'

মো. শহীদুল হক ফয়সাল লিখেছেন, 'তাতে কী? আমরা এগিয়ে আছি উন্নয়নের মহাসড়কে, অস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক, হেলমেট বাহিনী আধিপত্য বিস্তার, হল দখল এগুলোয় আমরা অনেক এগিয়ে। যা অন্য কোনো দেশে নেই।'

নাসির উদ্দিন সুজনের মন্তব্য, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মাধ্যমে এ দেশের রাজনৈতিক উত্থান এর একটা উর্বর জমি তৈরি করা হয়, কিন্তু শিক্ষার উন্নয়নে কিংবা আবিষ্কারের প্রয়োজনে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্ম হয়নি!'