স্কুলে নির্মাণসামগ্রী রাখতে না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধর করলেন পৌর কাউন্সিলর
বিদ্যালয়ের মাঠে ইট, বালি খোয়াসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখতে না দেওয়ায় কুষ্টিয়ায় এক প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছেন পৌর কাউন্সিলর।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়ক সংলগ্ন লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ঘটনার প্রতিবাদে এবং ওই কাউন্সিলরের বিচার দাবিতে প্রায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
হামলাকারী আসাদুর রহমান আশা কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে পৌরসভার রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। এই নির্মাণ কাজের ইট, বালি, খোয়া বিদ্যালয়ের মাঠে রাখেন ওই কাউন্সিলর। প্রায় ১ বছর ধরে ওই রাস্তার নির্মাণকাজ চলছে।
এছাড়া কাউন্সিলর আসাদুর নির্মাণকাজের জন্য ক্লাস চলাকালে বিদ্যালয়ের পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, অনেক দিন ধরে বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখার পর, তিনি ওই কাউন্সিলরকে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে বলেন।
এ ঘটনায় কাউন্সিলর আসাদুর ক্ষুব্ধ হয়ে আজ সকালে লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন এবং প্রধান শিক্ষককে সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারী বলে গালাগালি করেন।
এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারধর করেন এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এভাবে হেনস্তা করতে দেখে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান মজনু কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান।
জানতে চাইলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কারো অনুমতি না নিয়ে কাউন্সিলর আসাদুর বিদ্যালয়ের ভেতরে রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী রেখে পরিবেশ নষ্ট করেছেন এবং জোরপূর্বক বিদ্যালয় থেকে পাইপ দিয়ে পানি নিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলেন।'
তিনি বলেন, 'বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে এ কাজ করতে নিষেধ করলে তার ওপর হামলা চালান ওই কাউন্সিলর। সে সময় তিনি অফিস কক্ষের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেন।'
জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বিরুল আলম ডেইলি স্টারকে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পৌর কাউন্সিলর আসাদুর রহমান আশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করেই নির্মাণসামগ্রী রেখেছিলাম। কিন্তু তিনি এখন "উল্টো খেলেছেন"।'