হিন্দু নারীর বাবার সম্পত্তি না পাওয়া কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্টের রুল
বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে হিন্দু নারীদের বঞ্চিত করার প্রথাগত আইনি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার দয়াভাগ স্কুল অফ থট অফ হিন্দু রিলিজিয়নের ব্যবহারের সংশ্লিষ্ট বিধান কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে সরকারকে একটি রুল জারি করেছেন আদালত।
রুলে, আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলেছেন কেন তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের জন্য হিন্দু নর-নারীর মধ্যে বৈষম্য দূর করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না।
প্রথাগত আইনের সাংবিধানিকতা- দয়াভাগা স্কুল অফ থট অফ হিন্দু রিলিজিয়নের ব্যবহার যা হিন্দু নারীকে তার বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে চ্যালেঞ্জ করে অনন্যা দাস গুপ্তার করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রুল জারি করেছেন বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেপুল বাগমার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং ধর্মীয় বিষয়ক; হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, আবেদনকারী অনন্য দাস গুপ্তের ভাই অনির্বাণ দাস গুপ্ত এবং তার মা রাখি দাস গুপ্তকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অনন্যা দাস গুপ্তকে তার ভাই অনির্বাণ দাস গুপ্ত তার বাবার অংশ থেকে বঞ্চিত করেছেন দয়াভাগ স্কুল অফ থট অফ হিন্দু রিলিজিয়নের ব্যবহারের নিয়মের কারণে।
দয়াভাগ স্কুল অফ থট অফ হিন্দু রিলিজিয়নের ব্যবহার শত শত বছর ধরে বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কিছু অংশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টনে অনুসরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রচলিত আইনের বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক।
আইনজীবী খায়রুল বলেন, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট আগামী রোববার অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিতে পারেন।