১৫০ টাকার ভাড়া ২০০, ম্যাজিস্ট্রেট বললেন ‘সবসময় নেয় না’
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাটে স্পিডবোট ভাড়া ১৫০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্পিডবোটের টিকিটের গায়ে লেখা নেই মূল্য। যাত্রীদের হুমকি দিয়েই এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। স্পিডবোট ঘাটে ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘাটে নিযুক্ত জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বারি সাংবাদিকদের বলেন, 'সবসময় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে না। আমরা মনিটরিং করছি। বেশি ভাড়া আদায় করলে সতর্ক করা হবে।'
আজ শনিবার দুপুরে অন্তত ২০ জন যাত্রী দ্য ডেইলি স্টারের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন।
বরিশালগামী যাত্রী আজাদ হোসেন বলেন, 'পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে রওয়ানা দেই মাদারীপুরের জাজিরা যাওয়ার উদ্দেশে। শিমুলিয়াঘাট এসে স্পিডবোট ঘাটে যাত্রীদের লাইনে দাঁড়ালে টিকিট কাউন্টার থেকে ২০০ টাকা দিতে বলে। ঈদ মৌসুম ছাড়া অন্যান্য সময়ে ১৫০ টাকাই নির্ধারিত। ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণ চাইলে কাউন্টারের কেউ কোনো কথাই বলেননি। লাইন দীর্ঘ হওয়ায় তাড়াতাড়ি সামনে চলে যেতে হয়েছে।'
মাদারীপুরগামী যাত্রী দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'স্পিডবোট ঘাটের ভাড়া নিয়ে প্রতি ঈদ মৌসুমে ঝামেলা হয়। প্রতিবার তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। কেউ কিছুই বলেনা। এবারও শিমুলিয়াঘাট থেকে স্পিডবোটের টিকিট কাউন্টার থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।'
যাত্রীদের অভিযোগ, স্পিডবোট ঘাটে একেক সময়ে একেক রকম ভাড়া আদায় করা হয়। ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে ঘাটের লোকজন যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। কখনো কখনো মারধরও করে থাকে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কোনো বাস বা লঞ্চের টিকিটে মূল্য লেখা না থাকা বেআইনি। কেউ এটা করলে প্রমাণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। লৌহজংয়ের শিমুলিয়ায় স্পিডবোট ঘাটে যদি এমনটা করে থাকে তাহলে কোন ভোক্তা প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। তাছাড়া, ভোক্তা অধিকারের নিয়মিত অভিযানেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।'
জানতে চাইলে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল আউয়াল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়ে দুপুরের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ জন স্টাফকে কাউন্টারে বসিয়ে রেখেছি। যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে। শিমুলিয়া ঘাটে ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় টিকিটের গায়ে মূল্য লেখার ব্যাপারে আলোচনা হয়নি। তবে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। এ ভাড়া স্বাভাবিক সময়েও ছিল।'
এ ব্যাপারে স্পিডবোট ঘাট ইজারদারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।