গ্যাসবাহী ট্রাক দুর্ঘটনা

৪৪ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি সচল হয়নি কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ট্রাক দুর্ঘটনার পর ৪৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পুরোপুরি সচল হয়নি কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। গতকাল রাত ১২টার দিকে মহাসড়কের উপর থেকে ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল শুরু হয়।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার বটতৈল থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখনও প্রায় ৩ হাজার যানবাহন মহাসড়কে রয়েছে।

তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে ধীরে ধীরে যানজট কমছে।

কুষ্টিয়া শহর থেকে ভেড়ামারা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা খারাপ হওয়ায় যানবাহন দ্রুত চলতে পারে না। ফরে দুর্ঘটনায় সৃষ্ট যানজট কমতে সময় লাগছে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া এলাকায় ভাঙাচোরা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এলপিজি সিলিন্ডারবাহী ট্রাক উল্টে যায়। ১০ চাকার ট্রাকটি বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ১৭ টন এলপিজি নিয়ে নাটোর যাচ্ছিল। রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকায় উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এই মহাসড়ককে বলা হয় উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের গেটওয়ে। এ মহাসড়ক দিয়েই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৩২ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘসময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে দীর্ঘ এই যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, 'এলপিজি সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি ছিল বেক্সিমকো কোম্পানির। গ্যাসভর্তি থাকায় সেটি সরানো ছিল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'বিস্ফোরণ হলে যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য উভয় পাশে বালু স্তূপ করে রাখা হয়। বেক্সিমকো কোম্পানির পক্ষ থেকেও সহায়তা করা হয় দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি সরাতে।'

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, 'ক্রেনের সাহায্যে রাতেই উল্টে যাওয়া সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে তুলে নেওয়া হয়। ফলে রাত ১২টার দিকে রাস্তায় যান চলাচল শুরু হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে এবং প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের যথেষ্ট উপযোগী না হওয়ায় পুরোপুরি যানজট মুক্ত হতে সময় লাগছে।'