‘৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় অনুবাদ করতে হবে’
বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অনুবাদ এবং এই ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মানবতার ইতিহাস প্রাথমিক পর্যায় থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত সব মাধ্যমের পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
আজ সোমবার বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণের ৫১তম বার্ষিকী উপলক্ষে নির্মূল কমিটির উদ্যোগে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এ দাবি জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সভাপতি নাট্যজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রামেন্দু মজুমদার, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা সমাজকর্মী রোকেয়া কবীর, নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক শহীদসন্তান অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী 'জাগরণ' এর যুগ্মসম্পাদক লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার নির্বাহী সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদার, নির্মূল কমিটির বোস্টন শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান, টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিটি তুরস্কের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শাহরিয়ার কবির বলেন, '৭ মার্চের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধুর আহ্বান সমগ্র জাতির চেতনায় স্বাধীনতা ও শোষণ-পীড়ন মুক্তির যে বোধ সঞ্চারিত করে তা মূর্ত হয়েছে পরবর্তী ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে, যা ছিল সার্বিক অর্থে একটি গণযুদ্ধ। এই চেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে ৭২ এর সংবিধানে রাষ্ট্রের ৪ মূলনীতির ভেতর।'
তিনি বলেন, 'উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মানবতার ইতিহাস সব মাধ্যমের পাঠক্রমে, প্রাথমিক পর্যায় থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছি বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অমূল্য সম্পদ বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় অনুবাদ করতে হবে।'
রামেন্দু মজুমদার বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ১৯ মিনিটের ভাষণটি শুনে আমরা এখনো শিহরিত হই, উদ্দীপ্ত হই। এই ভাষণের জন্যই তিনি রাজনৈতিক কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু এই ভাষণটি আমাদের চিরকালের প্রেরণা। সুতরাং এই ভাষণটিকে আমাদের প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শিক্ষা মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।'
বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার মন্তব্য করে নির্মূল কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, 'বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ই মার্চ এমন একটি দিন যেদিন বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা দেন। এ ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, যা ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে নথিভুক্ত করে।'
তিনি আরো বলেন, 'দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে শাসন-শোষণ চালিয়েছিল তার ইতিহাস এবং সাম্প্রদায়িকতার কুফল বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৯ মিনিটের বক্তব্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্য ছিল '৫২ থেকে '৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তানি সরকার যখন বঙ্গবন্ধুর দাবিগুলো একের পর এক প্রত্যাখ্যান করছে এমন সময় তিনি নিরুপায় হয়েই দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বাঙালি জনগণকে নিজেদের অধিকার আদায় করার নিমিত্তে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন।'