ইউক্রেনীয়দের আশ্রয় দিলে মাসে ৩৫০ পাউন্ড: যুক্তরাজ্য
রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে নতুন প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
আজ রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গত রোববার ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, 'হোমস ফর ইউক্রেন (ইউক্রেনের জন্য বাসস্থান)' প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাজ্যে কোনো আত্মীয়স্বজন না থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা সেখানে আশ্রয় নিতে পাবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি বা পরিবার তাদের বাসায় কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য একটি বাড়তি কক্ষ বা থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে তারা সরকারের পক্ষ থেকে মাসে ৩৫০ পাউন্ড (প্রায় ৩৯ হাজার ৬৬৯ টাকা) করে ভাতা পাবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যুক্তরাজ্যকে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইতিবাচক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তিনি বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
বিরোধী রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা এ প্রসঙ্গে সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থী ইউক্রেনীয়দের ব্রিটেনে আসার আগে ভিসা ও বায়োমেট্রিক পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা বজায় রেখে সরকার বাস্তুচ্যুত মানুষদের সুযোগসুবিধার চেয়ে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অপরিবর্তিত রাখার ওপর বেশি জোর দিয়েছে।
নতুন এ প্রক্রিয়ার আওতায় সাধারণ জনগণ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি গ্রুপগুলো সুনির্দিষ্ট ওয়েব পেজে পোস্ট করে ইউক্রেনের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারবে। এ প্রক্রিয়াটি আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ চালু হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
ব্রিটেনের আবাসন মন্ত্রী মাইকেল গোভ বিবৃতিতে জানান, 'যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের এই অন্ধকারতম সময়ে তাদের সঙ্গে আছে। ব্রিটেনের জনগণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত।'
'আমি সবাইকে অনুরোধ জানাই দেশজুড়ে এ জাতীয় উদ্যোগে অংশ নিয়ে আমাদের ইউক্রেনীয় বন্ধুদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। সে সঙ্গে আমরা তাদেরকে যেন নিরাপদ আবাসও দিতে পারি', যোগ করেন মাইকেল।
যারা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, তাদের কক্ষ বা থাকার জায়গাটিকে এক নির্দিষ্ট মানদণ্ডে বিচার করা হবে। তাদের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা হয়েছে কি না, তাও যাচাই করে দেখা হতে পারে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি হতে পারে।