ইউক্রেনের লজিস্টিক কেন্দ্র ও মানবিক করিডোর ঝিটোমিরে ধারাবাহিক হামলা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ১৯তম দিন আজ সোমবার। শুরু থেকেই সবার মনোযোগের কেন্দ্র ছিল ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্তে হামলার ঘটনা। পরবর্তীতে কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে রুশ হামলা শুরু হয়।
  
তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিয়েভ ও এর আশপাশের হামলার তথ্য খুব বেশি না আসলেও, রাজধানীর ঠিক পশ্চিম দিকে অবস্থিত ঝিটোমির অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রায় প্রতিদিনই বোমা হামলার শিকার হয়েছেন। 

বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝিটোমির শহরে ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়ে অনেক বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
 
আগ্রাসনের প্রথম ২ সপ্তাহে রুশ বাহিনী ঝিটোমির ও এর চারপাশের অন্যান্য শহর ও গ্রামে প্রায় ৪০টির মতো রকেট নিক্ষেপ এবং বিমান হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
ধারাবাহিক আক্রমণে বেশ কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছেন, যাদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয়ই আছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ঝিটোমির কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
 
ঝিটোমিরের মেয়র সের্হেই সুখোমলিন বিবিসিকে জানান, যুদ্ধের আগে শহরটিতে ২ লাখ ৮০ হাজার বাসিন্দা ছিলেন। আক্রমণের শিকার হয়ে শহর থেকে অর্ধেক জনগোষ্ঠী পশ্চিম ইউক্রেন ও অন্যান্য দেশে পালিয়ে গেছেন।
 
ঝিটোমির একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র এবং মানবতার করিডোর। সমগ্র ইউরোপ থেকে আসা ত্রাণসামগ্রী ঝিটোমিরের মাধ্যমে কিয়েভ ও দেশের পূর্ব দিকের অন্যান্য শহরে পাঠানো হচ্ছে। শরণার্থীরাও কিয়েভ থেকে ঝিটোমির অভিমুখে যাত্রা করছেন।
 
ধারাবাহিক আক্রমণে পানি ও জ্বালানী সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও মেয়র সুখোমলিন জানান, মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
   
অনেকেই ইউক্রেন থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ঝিটোমিরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন। শহরে ও গ্রামে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ট্রানজিট হিসেবেও এ শহর ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ফলে রুশ বাহিনী কিয়েভ ও ঝিটোমিরের মধ্যে সড়কপথ বন্ধ করার জন্যই মূলত ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। ঝিটোমির ও তার চারপাশের এলাকাগুলোতে প্রবল বোমাবর্ষণ হয়েছে।
 
শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কিয়েভের কাছাকাছি জায়গায় ২ পক্ষের স্থলবাহিনী যুদ্ধ করছে।
 
যুদ্ধের শুরু থেকেই ঝিটোমির ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো বেলারুশ প্রান্ত থেকে হামলার কবলে পড়ার আশঙ্কা করছিল।
 
সম্প্রতি বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো দাবি করেন, ইউক্রেন তার দেশে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তার এই দাবির স্বপক্ষে এখনও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 
ঝিটোমিরের মেয়র সুখোমলিন জানান, তিনি লুকাশেঙ্কোর অভিযোগ নিয়ে বিন্দুমাত্রও বিচলিত নন। তিনি দাবি করেন, স্থলবাহিনীর আক্রমণ ঠেকানোর জন্য শহরটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
 
'ইউক্রেনের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি মজবুত। আমরা প্রস্তুত আছি', বলেন তিনি।