চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছিল রাশিয়া, সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনের কাছে রাশিয়া সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা চেয়েছিল বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে এমনটি করা হলে 'চরম পরিণতি'র বিষয়ে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

আজ সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি এ তথ্য জানায়।

বিবিসি জানায়, ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে তারা এ বিষয়ে 'কিছু জানে না'।

ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর জানিয়েছে, চীনের কাছে রাশিয়ার সাহায্য চাওয়ার সংবাদ প্রথম প্রকাশ করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। তবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেছেন, 'আমি এমনটি শুনিনি'।

ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতিকে 'বিরক্তিকর' হিসেবে উল্লেখ করে লিউ পেংইউ বলেন, 'এই অবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আমরা সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি।'

প্রতিবেদন মতে, বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়া চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। এরপর হোয়াইট হাউস উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এই আশঙ্কায় যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় পশ্চিমের দেশগুলো যে চেষ্টা চালাচ্ছে চীন তা অবজ্ঞা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালেভ্যান বেইজিংকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মস্কোকে সহায়তা করা হলে 'নিশ্চিতভাবে চরম পরিণতি' ভোগ করতে হবে।

আজ সোমবার রোমে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ইয়াং জিচির সঙ্গে জ্যাক সালেভ্যানের বৈঠকের কথা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, বৈঠকে চীনের শীর্ষ কূটনীতিককে সালেভ্যান ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা জানাবেন।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, এমন সংবাদ সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ পশ্চিমের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে চীনের কাছে 'ড্রোন' চেয়েছিল রাশিয়া।

ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই উত্তেজনা কমানো' চীনে কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউক্রেনে রুশ হামলার কিছুক্ষণ পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বেইজিং নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। বেইজিং মনে করে নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান নয়। আন্তর্জাতিক আইনে এসব নিষেধাজ্ঞার কোনো ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।