রাশিয়া লিভিভের উদ্দেশে ৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে: ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আজ শুক্রবার সকালে রাশিয়া ইউক্রেনের পশ্চিম প্রান্তের শহর লিভিভের উদ্দেশে ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুব সম্ভবত ক্রুজ মিসাইল এবং এগুলোকে কৃষ্ণ সাগরের ওপর দিয়ে উড়তে থাকা রুশ যুদ্ধ বিমান থেকে ছোড়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২টি ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সমর্থ হয়।

লিভিভের মেয়র আন্দ্রেই সাডোভি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত একটি উড়োজাহাজ মেরামত কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আঘাতের আগেই কারখানার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর শহরের পশ্চিম প্রান্তের ড্যানিলো হ্যালিটস্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

আজকের ঘটনার আগে পর্যন্ত রুশ বাহিনী ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর লিভিভে সরাসরি হামলা চালানো থেকে বিরত ছিল।

অবস্থানগত দিক দিয়ে এ শহর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পোল্যান্ডের সীমান্তের মাত্র ৭০ কিমি দূর অবস্থিত এ শহরের খুব কাছেই রয়েছে ন্যাটো বাহিনীর অবস্থান। এ শহরে বড় আকারের হামলায় আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার আশঙ্কা রয়েছে।

লিভিভ ইউক্রেনের বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের জন্যেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। শহরটির মেয়র সাডোভি জানান, ৭ লাখ বাসিন্দার শহরে বর্তমানে ২ লাখ শরণার্থী বসবাস করছেন। এ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ লিভিভে আসছেন।

অনেকে সীমান্ত পার হওয়ার আগে সাময়িক ও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে লিভিভকে বেছে নিয়েছেন।

লজিস্টিকসের দিক দিয়েও লিভিভ গুরুত্বপূর্ণ। লিভিভের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কাছে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র পৌঁছানো হয়। রাশিয়ার প্রাথমিক আগ্রাসন প্রতিহত করার সাফল্যের পেছনে লিভিভের বড় অবদান আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। 

লিভিভ নগরের কেন্দ্রস্থলটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া সেখানকার জাতীয় যাদুঘরে প্রাচীন আমলের চিত্র ও দুর্লভ ধর্মীয় পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

এ ছাড়া, কিয়েভে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়াতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও গণমাধ্যম সংস্থার কার্যালয়গুলো লিভিভে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে আনা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, লিভিভ রুশ ও ইউক্রেনীয়, উভয় পক্ষের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ।