রুশ হামলায় কিয়েভ ও মারিউপোলে বহু ভবন বিধ্বস্ত
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ২০তম দিন আজ মঙ্গলবার। বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট থেকে উত্তরণের আহ্বান জানানো হলেও আজও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ বাহিনীর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবাদাতা সংস্থার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, আজ ভোরে রাজধানী কিয়েভের আবাসিক এলাকার ২টি ভবন রুশ হামলার শিকার হয়।
কিয়েভ শহরের কেন্দ্রস্থলের পূর্বদিকে অবস্থিত ওসোকোর্কি এলাকার একটি বেসরকারি দালানে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে গোলা নিক্ষেপের অভিযোগ এসেছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
গোলার আঘাতে দোতলা দালানটিতে আগুন ধরে যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ওসোকোর্কির হামলার অল্প সময় পর পোডিল এলাকার একটি ১০তলা ভবন আক্রান্ত হয়। এই ভবনটি শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে উত্তর দিকে অবস্থিত।
হামলায় দালানের প্রথম ৫ তলায় আগুন ধরে যায়। এক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জরুরি সেবাদাতা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজিসের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন ইমেজ বিশ্লেষণ করে ইউক্রেনের কোন কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হামলার কবলে পড়েছে, সে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে আসছে।
কিয়েভ থেকে ৩৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি এলাকার স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, মোসচুন গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, কিছু বাড়িতে আগুন জ্বলছে এবং গ্রামের চারপাশে থাকা শস্যখেত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
গতকাল সোমবার তোলা এই ছবিগুলোতে মারিউপোল শহরের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও দেখা গেছে।
মারিউপোলের ঝোভতেনেভি মহল্লায় অবস্থিত আঞ্চলিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র হাসপাতালের বাইরের দিকে একটি বড় ফুটো তৈরি হয়েছে। চারপাশে ভেঙে পড়ে থাকা ইট-পাথরের টুকরোও দেখা যায় ছবিতে।
তবে কোন পক্ষের হামলায় হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। আশপাশের হাসপাতাল ভবন, কিছু অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি দালানে আগুন লেগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
আরও এক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত প্রিমোরস্কি মহল্লায় বেশ কিছু বাড়ি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। কাছাকাছি অবস্থিত অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সেও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায় স্যাটেলাইট ছবিতে।
শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আবাসিক এলাকার কিছু বাড়িও ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।