সাড়ে ১৩ হাজার রুশ সেনা নিহত, ৪০৪ ট্যাঙ্ক ৮১ উড়োজাহাজ ধ্বংস: ইউক্রেন
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে আজ ২২তম দিন। অল্প সময়ে এ যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ হবে বলে বিশ্লেষকরা মত দিলেও বাস্তবে তা হয়নি। বিশ্বের ২য় বৃহত্তম সামরিক শক্তির সঙ্গে ২২তম স্থানে থাকা ইউক্রেনের যুদ্ধ যে ২২ দিন ধরে চলবে তা ভাবার তেমন যৌক্তিক কারণও নেই।
স্বভাবতই, অন্য যেকোনো যুদ্ধের মতো এ যুদ্ধেও হতাহত হচ্ছেন অসংখ্য সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে এখনো সংশয় আছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের গণমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার রুশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার ১ হাজার ২৭৯ এপিসি (সাঁজোয়া গাড়ি), ৬৪০ গাড়ি, ৪০৪ ট্যাংক, ১৫০ কামান, ৬০ তেলের ট্যাংক, ৬৪ রকেট লঞ্চ সিস্টেম (এমএলআরএস), ৯৫ হেলিকপ্টার, ৮১ উড়োজাহাজ, ৩৬ উড়োজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র, ৯ মানুষবিহীন উড়োজাহাজ (ইউএভি) ও ২ নৌযান ধ্বংস করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, রুশ সামরিক বাহিনী ৩ সপ্তাহের সংঘর্ষে ৭ হাজারেরও বেশি সেনা হারিয়েছে।
তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইউক্রেনে পরিচালিত 'বিশেষ সামরিক অভিযানে' ৪৯৮ রুশ সেনা নিহত হারিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ এ তথ্য প্রকাশের পর আর কোনো হালনাগাদ তথ্য জানায়নি রাশিয়া।
রাশিয়ায় এ ধরনের সংবাদ শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থার সূত্রে প্রকাশের অনুমতি আছে। ভিন্ন সূত্রের তথ্য প্রকাশ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রকৃতপক্ষে উভয় পক্ষের হতাহতের সংখ্যা কত, তা হয়তো কখনোই হয়তো জানা যাবে না। তবে যেকোনো যুদ্ধের মতো এ যুদ্ধেও অসংখ্য বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হচ্ছেন। হামলার হাত থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন প্রতিবেশী দেশগুলোয়।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার হিসেবে ইতোমধ্যে ২৫ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়েছেন।