ইউক্রেন সংকট: রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবার কানাডা ও জাপানের নিষেধাজ্ঞা
ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপ চালানোয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একেরপর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে বিভিন্ন দেশ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। গতকাল নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। এবার তাদের সঙ্গে সামিল হয়েছে কানাডা ও জাপান।
রয়টার্স জানায়, পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের ২ অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার একদিন পর গতকাল রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
তিনি বলেন, 'তার সরকার তথাকথিত স্বাধীন রাষ্ট্র দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের সঙ্গে কানাডিয়ানদের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। এ ছাড়া, রাশিয়ান সার্বভৌম ঋণ ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকা থেকে কানাডিয়ানদের বিরত রাখা হবে।'
ট্রুডো আরও বলেন, 'রুশ পার্লামেন্টের যেসব সদস্যরা দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।'
এ ছাড়া, কানাডা রাশিয়া সমর্থিত দুটি ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে এবং তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ করবে বলেও জানান ট্রুডো।
ট্রুডো আরও জানান, তিনি ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর অনুমোদন দিচ্ছেন।
এদিকে, ইউক্রেনে মস্কোর হস্তক্ষেপকে দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে গতকাল রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।
কিশিদা বলেন, 'এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে- জাপানে রাশিয়ান বন্ড ইস্যু নিষিদ্ধ করা এবং নির্দিষ্ট কিছু রুশ ব্যক্তির সম্পদ জব্দের পাশাপাশি জাপানে তাদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা।'
তিনি আরও বলেন, 'রাশিয়ার আগ্রাসন স্পষ্টভাবেই ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। আমরা আবারো এসব উদ্যোগের সমালোচনা করছি এবং রাশিয়াকে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার জন্য জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।'
এর আগে, গত সোমবার পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের ২ অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের নির্দেশ দেন তিনি।
এরপর পরই মূলত নিষেধাজ্ঞা আসা শুরু করেছে পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষ থেকে। প্রথমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও একই পথ হেঁটেছে। এ ছাড়া, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলছে।