পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সেনা: যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের নিন্দা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ ভাষাভাষী দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে 'শান্তি রক্ষার জন্য' সেনা পাঠানোর যে নির্বাহী আদেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিয়েছেন তার নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।

আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব ইউরোপে সেনা ঘোষণায় রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, পশ্চিমের দেশগুলোর নেতারা মনে করছেন—ইউক্রেনে বড় মাত্রায় অভিযানের আগে পুতিন দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল অনেকদিন থেকেই মস্কো-সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই পুতিনের এই নির্বাহী ঘোষণাকে 'নতুন করে হামলা' বলা যায় না, যার কারণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দরকার।

তবে যেকোনো সময় আরও বড় মাত্রার সামরিক অভিযান আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইউক্রেন সংকট নিরসনে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সম্ভাব্য বৈঠকের যে আলোচনা হচ্ছিল তা নাও হতে পারে।

আজ ভোরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি জাতির উদ্দেশে ভাষণে তার দেশের অখণ্ডতার ওপর জোর দেন এবং রাশিয়া শান্তি প্রক্রিয়া নষ্ট করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

পূর্ব ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্টের সেনা পাঠানোর ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ ছাড়াও, তিনি ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া অঞ্চল ২টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ ও সেখান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন রাশিয়ার নতুন ঘোষণাকে 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে উল্লেখ করেছেন।

এক রুশ কূটনীতিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অনুরোধে আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের মুখপাত্র বলেছেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারিতে রাজি হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুস বলেছেন, তার দেশ আজ নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেবে।

জাপান জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও শিল্পপ্রধান ৭ দেশের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে থাকবে।

ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ রাশিয়ার সেনা পাঠানোর ঘোষণাকে ইউক্রেনে পরবর্তী হামলার 'পটভূমি তৈরির' চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

এর আগে, ২০১৪ সালে গণআন্দোলনের মুখে ইউক্রেনে রুশপন্থি সরকারের পতন হলে পুতিন ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার অংশ করে নেন। তিনি যুক্তি দেন যে এক সময় ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ ছিল।