প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে মাখোঁ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

রোববার ফ্রান্সের ভোটাররা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ভোট দিচ্ছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন লে পেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পুনর্নির্বাচনের আশাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ে দুপুর ১টার মধ্যে ভোটদানের আনুমানিক হার ছিল ২৫.৫ শতাংশ। যা ২০১৭ সালে একই সময়ে ২৮.৫ শতাংশ ছিল।

ভোট কেন্দ্রগুলো রাত ৮টায় বন্ধ হয়ে যাবে তখন প্রথম ও সাধারণত নির্ভরযোগ্য এক্সিট পোল প্রকাশিত হবে। প্রচারাভিযান শেষের আগে প্রকাশিত জরিপগুলো আগামী ২৪ এপ্রিল মাখোঁ-লে পেনের রানঅফের সম্ভাব্য ফলাফলের কথা জানিয়েছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও জনমত জরিপগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী ও মধ্যপন্থী মাখোঁর জন্য একটি সহজ জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ইউক্রেনের ওপর তার সক্রিয় কূটনীতি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বিরোধী দলগুলোর বিভক্তি তাকে জরিপে এগিয়ে রেখেছিল।

রয়টার্স বলছে, কিন্তু প্রচারাভিযানে মাখোঁর দেরিতে প্রবেশ এবং মাত্র একটি বড় সমাবেশকে তার সমর্থকরা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। এছাড়া, অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর পরিকল্পনার ওপর তার ফোকাস, মুদ্রাস্ফীতির তীব্র বৃদ্ধি তার সমর্থন কমিয়েছে।

৪৭ বছর বয়সী আর্মেল সাভিদা প্যারিসে মাখোঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার পরে বলেন, আমি মনে করি তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার সাহস আছে... আগামীর ফ্রান্স গড়ার।

অন্যদিকে অভিবাসন-বিরোধী ও কট্টর ডানপন্থী লে পেন জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর কয়েক মাস ধরে প্রচারণা চালিয়েছে। এছাড়া, তার মেরিন লে পেনের প্রতিদ্বন্দ্বী এরিক জেমমোর তাকে সমর্থন দেওয়ায় মাখোঁর জন্য এই নির্বাচন কঠিন হয়ে উঠেছে।

উত্তর ফ্রান্সের হেনিন-বিউমন্টে লে পেনের ন্যাশনাল র‌্যালি পার্টির মেয়র স্টিভ ব্রিওস বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নিয়ে আমাদের মতামতের জন্য পরিচিত। কিন্তু, এখন আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি দেশের সামাজিক সমস্যাগুলো।

শুক্রবার মধ্যরাতে শুরু হওয়া একটি প্রচারাভিযান ব্ল্যাকআউটের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপের প্রথম রাউন্ডে এখনো মাখোঁ এগিয়ে আছে। ওই জরিপ অনুযায়ী, আগামী ২৪ এপ্রিল লে পেনের বিরুদ্ধে রানঅফেও তিনি এগিয়ে আছেন। কিন্তু, সেই একই জরিপগুলো বলেছে, সেখানে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কারণ লে পেন ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। কেউ কেউ এটিকে 'মার্জিন অব এরর' মধ্যে লে পেনের বিজয়ও দেখছেন।

মাখোঁর জন্য রানঅফ ঝুঁকি

৪৪ বছর বয়সী মাখোঁ ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শেষ দিকে প্রচারণায় নামলেও লে পেনের কর্মসূচি তার এবং তার ন্যাশনাল র‌্যালি পার্টির প্রতি মানুষের ভাবমূর্তি পরিবর্তিত হয়নি।

প্যারিসের ঠিক বাইরে সেভ্রেসে ৫৮ বছর বয়সী অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জ্যাক পোগিও বলেন, ৫ বছর আগে তিনি মাখোঁকে সমর্থন করেছিলেন। তবে এবার তিনি কট্টর বামপন্থী জঁ-লুক মেলেনচনকে ভোট দিয়েছেন।

মেলেনচন জনমত জরিপে তৃতীয় স্থানে আছেন এবং তার প্রচারাভিযানে বামপন্থী ভোটাররা তাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তাকে রানঅফে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

মাখোঁ ২০১৭ সালে বাম-ডান-মধ্যপন্থী প্ল্যাটফর্মে নির্বাচিত হন। তবে, তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিগুলো ডানপন্থীদের দিকে চলে যায়।

অনুমান করা হচ্ছে- মাখোঁ এবং লে পেন রানঅফে যাচ্ছেন। সেখানে মাখোঁকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। কারণ, অনেক বামপন্থী ভোটাররা বলেছেন, ২০১৭ সালের মতো তারা লে পেনকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে মাখোঁর পক্ষে ভোট দেবে না।

তাই মাখোঁকে জিততে হলে ভোটারদের মন পরিবর্তন করাতে হবে এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে হবে।

এই মুহূর্তে রোববারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ভোটাররা কাকে বেছে নিচ্ছেন এবং ৫৩ বছর বয়সী লে পেন জনমত জরিপের ভবিষ্যদ্বাণীকে অতিক্রম করে প্রথম রাউন্ডে শীর্ষে উঠে আসতে পারেন কিনা।

লে পেন বৃহস্পতিবার সমর্থকদের বলেন, সবকিছুই সম্ভব। যে কোনো কিছু হতে পারে।

সপ্তাহের শুরুতে মাখোঁ তার অনুসারীদের লে পেনকে ছাড় না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ব্রেক্সিট এবং অন্যান্য অনেক নির্বাচনের কী ঘটেছিল তা দেখুন, যা অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল তাই ঘটেছিল।