চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ কোটি ডোজ টিকা আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ছয় কোটি ডোজ টিকা আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ শনিবার দুপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয় কোটি ডোজ টিকার মধ্যে দুই কোটি ডোজ আগামী অক্টোবর মাসে ও দুই কোটি ডোজ নভেম্বরে দেশে আসবে। বাকি টিকা পর্যায়ক্রমে পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী আমরা টিকা দিতে পেরেছি। দ্বিতীয় ডোজ পঞ্চাশ লাখের মতো পেয়েছে। টিকার ব্যবস্থা আমরা প্রতি নিয়ত বাড়ানোর চেষ্টা করছি। পৃথিবীতে টিকার সংকট রয়েছে। এমন কোনো দেশ নাই যেখানে আমরা টিকার সন্ধান না করেছি। প্রতিটি জায়গায় আমাদের দূতাবাস কাজ করছে। চীন থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনার জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম, আরও ছয় কোটি টিকা আনার জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। অর্থাৎ আগে যে দেড় কোটি কনসার্ন চুক্তি ছিল তার সঙ্গে আরও ছয় কোটি মিলিয়ে মোট সাড়ে সাত কোটি টিকা চীন থেকে আনার চেষ্টা আমরা করছি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। এখন আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাব।
আমরা আশা করি, যেভাবে চীন বলেছে নভেম্বরের মধ্যে প্রতি মাসে সমহারে আমরা টিকাগুলো পাব। যদি তারা তাদের কমিটমেন্ট ঠিক রাখে, অক্টোবরে দুই কোটি ও নভেম্বরে দুই কোটি টিকা পাব। পাশাপাশি কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির টিকা সরবরাহও বজায় থাকবে। টিকা আমরা গ্রামে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। শহরের লোকেরা টিকা মোটামুটি পেয়েছে। গ্রামের বয়স্ক লোক সেভাবে টিকা গ্রহণ করেনি। তাদের মধ্যে অনীহাও ছিল। আমরা সেই জন্য টিকা তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা শহরে যে ৭৫ শতাংশ রোগী আছে তাদের বেশির ভাগই গ্রাম থেকে আসা এবং ৯০ শতাংশই টিকাবিহীন, তারা টিকা নেননি— বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সংক্রমণ কমাতে হবে। সংক্রমণ হাসপাতাল-ক্লিনিকে তৈরি হয় না, রাস্তা-ঘাটে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, সংক্রমণের হার বাড়ছে। ডাক্তার-নার্স তো ট্রান্সপোর্ট সেক্টর কন্ট্রোল করতে পারবে না। ফেরি কন্ট্রোল করতে পারবে না। ফ্যাক্টরি কন্ট্রোল করতে পারবে না। আমাদের জনগণের সাপোর্ট দরকার। জনগণ পারবে এই ইনফেকশনের হার কমাতে। বিভিন্ন বাহিনী যারা দায়িত্বে আছে, ট্রান্সপোর্ট সেক্টরে যারা আছে তারা কন্ট্রোল করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। টিকা নিতে হবে। আমাদের ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কাররা টিকা পেয়ে গেছে। ছাত্ররা মোটামুটি পেয়ে গেছে। এখন গ্রামে যাদের মৃত্যুর হার এত বেশি হচ্ছে তাদের আগে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা হাতে নিয়েছি।
ফিল্ড হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০ দিন আগে আমরা কনভেনশন সেন্টারটি দেখতে এসেছিলাম। আমরা অনুভব করছিলাম, ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালের শয্যাগুলো আস্তে আস্তে শেষ হয়ে আসছে। রোগী ভরে যাচ্ছে। যে কারণে এই কনভেনশন সেন্টারকে ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তরিত করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিলাম। উত্তর সিটি করপোরেশনে আমরা ২৪ দিনে একটি হাসপাতাল করেছিলাম। সেটিও এক হাজার শয্যার ছিল। এই হাসপাতালটিও এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হবে। ২০ দিনে আমরা ৪০০ শয্যা প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে আইসিইউ শয্যা আছে ৪০টি। বাকি সব শয্যাগুলো সেন্ট্রাল অক্সিজেনের আওতায় রয়েছে। সব ধরনের কোভিড রোগীর জন্য উপযোগী। এখানে ১০ হাজার লিটার লিকুইড অক্সিজেন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। টেস্ট করার জন্য ছোট ল্যাবের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন রোগী এবং মুমূর্ষু রোগী এখানে আসবেন, আমরা তাদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ছয় হাজার শয্যা রয়েছে, তার মধ্যে এখন এক হাজার শয্যাও খালি নেই। এই পর্যায়ে আমরা আছি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার আইসিইউ রয়েছে, তারপরও আমরা আইসিইউ সংকট দূর করতে পারিনি। নন-কোভিড রোগীই ৮০ শতাংশ। তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে, আবার ডেঙ্গু এসেছে ঘাড়ে উঠেছে, বলেন জাহিদ মালেক।