চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরীক্ষায় ইচ্ছামতো টাকা আদায়ের অভিযোগ
সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা পরীক্ষায় ১০০ টাকা ফি নির্ধারিত হলেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মিলনায়তনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মত বিনিময় সভায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য টাকা আদায়ের অভিযোগের কথা জানান।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্ব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, সিভিল সাজর্ন ডা. মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন প্রমুখ।
অভিযোগ করে বলা হয়, করোনা পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা হলেও রোগীদের কাছ থেকে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আদায় করা অতিরিক্ত টাকা কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জন।
অভিযোগ করা হয় হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ কয়েকজন কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত।
পরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআই-১) মারুফ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান কচি।
আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা হলেও সদর হাসপাতালে খেয়াল খুশি মতো টাকা আদায় করা হয়। বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহে আরও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু দেওয়া হয় না কোন রশিদ। কাউকে রশিদ দেওয়া হলেও আদায় করা টাকার পরিমাণ লেখা হয় না। অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে নানাভাবে হয়রানি করা অভিযোগও আছে।
এ ব্যাপারে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি স্টার। চুয়াডাঙ্গা শহরের ওহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, তিনি ও তার স্ত্রী সদর হাসপাতালে ২৪০ টাকা দিয়ে করেনা পরীক্ষা করান গত ১২ জুলাই। তিনি রশিদ চাইলে তাকে কোনো কথা না বলে চলে যেতে বলা হয়। আলী রমিজ রাজন নামে আরেক যুবক জানান তার মায়ের করোনা পরীক্ষার জন্য তার কাছ থেকে দেড়শ টাকা আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মারুফ হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম সরকার জানান, বৈঠকে অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাসপাতালে অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সবাইকে স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং দুস্থ ও অসহায়দের জন্য বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তাদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না।