ফরিদপুরে টিকাকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়, উপেক্ষিত সামাজিক দূরত্ব
ফরিদপুরে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সেখানে টিকা নিতে আসা লোকেদের দীর্ঘ সারিতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ভিড়ের কারণে টিকা প্রদানকারীদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফরিদপুর সদরের তিনটি হাসপাতাল ও আটটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ মোট ১১টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদের দীর্ঘ সারি হাসপাতাল চত্বর পার হয়ে ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। টিকা নিতে আসা সবাইকে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গায়ে গা ঘেঁষে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সেখানে টিকা নিতে আসা শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার মেহেরুন্নেসা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে হবে। এত ভিড় ও সময় নিয়ে টিকা দিতে হবে জানলে আগেই বাড়ির কাজ শেষ করে আসতাম।'
শহরের টেপাখোলা মহল্লার বাসিন্দা হাসমত আলী বলেন, 'সারিতে দাঁড়াতে আপত্তি নেই। কিন্তু, মানুষ যেভাবে ঘাড়ের উপর উঠে আসে, তাতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়। করোনা ঠেকাতে টিকা নিতে এসে করোনার বীজ সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি কি না সে শঙ্কা হচ্ছে।'
ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ ফরিদপুরের ১১টি কেন্দ্রে তিন হাজার ৩৭ জনকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮১৪ জন টিকা নিয়েছেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রে।
ফরিদপুর সদরের অন্য দুটি কেন্দ্রের মধ্যে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৪৮২ জন এবং ফরিদপুর পুলিশ লাইনস হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন ৮৩ জন। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি টিকা নিয়েছেন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯৪ জন।
জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ছিদ্দীকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফরিদপুরে টিকা নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তবে, ফরিদপুর সদরে জেনারেল হাসপাতালে চাপ বেশি পড়ায়, টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদের যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি টিকা প্রদানকারী স্বাস্থ্য কর্মীদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সদর উপজেলার বাসিন্দারা জেনারেল হাসপাতালের পাশাপাশি ফরিদপুর মেডিকেল ও পুলিশ লাইনস হাসপাতালে গেলে টিকাদান কর্মসূচি ভালোভাবে শেষ করা সম্ভব হবে।'