বিশ্লেষণ

ন্যাটো ভেঙে ট্রাম্পের লাভ কী

মোজাক্কির রিফাত
মোজাক্কির রিফাত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা কাঠামোর সবচেয়ে বড় স্তম্ভ ছিল ন্যাটো। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক নজিরবিহীন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মেয়াদে বৈশ্বিক মিত্রতা ও নিরাপত্তার সংজ্ঞাই বদলে যাচ্ছে।

বিশেষত, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর মিত্রদের অসহযোগিতা ট্রাম্প প্রশাসনকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রথাগত আটলান্টিক-কেন্দ্রিক জোট থেকে বেরিয়ে এসে একমুখী ও স্বার্থভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের দিকে এগোচ্ছে। ন্যাটোর ভাঙনে কী ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইরান যুদ্ধের ক্ষত ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা তৈরি করেছে ইরান যুদ্ধ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের মতো ইউরোপের প্রধান ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়।

মিত্রদের অসহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এছাড়া, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৬টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ও ই-৩ সেন্ট্রি নামে ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ যুদ্ধবিমান হারানোর মতো সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

ব্রিটিশ পত্রিকা টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  বলেছেন, ইউরোপের এই নিষ্ক্রিয়তাকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছেন তিনি।

কৌশলগত হাতিয়ার গ্রিনল্যান্ড

ন্যাটোর ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার এক আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছিল। সেখানে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগ্রহও ছিল তাদের।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড দখলের এই পরিকল্পনার বিরোধিতাকারী ন্যাটো মিত্রদের ওপর ট্রাম্প ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ এবং ১ জুন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

দেশগুলো হলো—ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্কটিক বা মেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘাঁটি মোকাবিলা করতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম আরও প্রসারিত করার উদ্দেশ্যও রয়েছে।

এছাড়া, গ্রিনল্যান্ডে বিরল খনিজ সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার আগ্রহও ছিল ট্রাম্পের।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রমাণ করতে চাইছে, ইউরোপের মুখাপেক্ষী না হয়েও গ্রিনল্যান্ডে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

এটি প্রথাগত ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তার ধারণা ভেঙে দিয়ে একক আধিপত্যের একটি চরম বাস্তববাদী রূপ, যা ন্যাটো জোটকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে দুর্বলতা

ন্যাটো চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫-এ বলা হয়েছে, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ।

সন্ত্রাসবাদ দমনে ন্যাটোর ভূমিকা এই আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কারণ, 
ন্যাটোর দীর্ঘ ইতিহাসে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার এই ধারাটি মাত্র একবারই প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানায় বিবিসি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো প্রথমবারের মতো তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতিটি কার্যকর করে।

কাবুলে ন্যাটো সদস্যদের কার্যক্রম। ছবি: রয়টার্স

এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানে তাদের সৈন্য পাঠায়। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ন্যাটো মিত্ররা সন্ত্রাসবাদ দমনে সরাসরি লড়াই করে।

ন্যাটো দুর্বল হলে এ ধরনের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমনে একজোট হওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।

ন্যাটো ভাঙন ও ইউরোপের নিঃসঙ্গতা

টেলিগ্রাফের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্টভাবে এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রভাব ইউরোপের জন্য ভয়াবহও হতে পারে।

ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চাইলেই একতরফাভাবে ন্যাটো ছাড়তে পারবেন না।

কিন্তু, ট্রাম্প চাইলে ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও কমান্ড থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিয়ে ন্যাটোকে কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারেন।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস জানায়, বর্তমানে ন্যাটোর মোট সামরিক ব্যয়ের ১০ ভাগের প্রায় সাড়ে ৬ ভাগ এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার ১০ ভাগের প্রায় সাড়ে ৪ ভাগ একাই বহন করে যুক্তরাষ্ট্র।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনা ও ‘নিউক্লিয়ার ছাতা’ সরে গেলে নিজস্ব প্রথাগত সামরিক কাঠামো দিয়ে এই শূন্যতা পূরণ করতে ইউরোপকে প্রতি বছর ২৯০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ, আগামী ২৫ বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে।

রাশিয়ার প্রতিশোধের রাজনীতি

ন্যাটোর এই অভ্যন্তরীণ ফাটল ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি নিখুঁত সুযোগ। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি হলে রাশিয়া তার বাহিনীকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে মোতায়েন করার সুযোগ পাবে।

এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, পুতিনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত লক্ষ্য হলো—পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ করা, ১৯৯৭ সালের পর ন্যাটোতে যোগ দেওয়া দেশগুলোতে সৈন্য সীমিত করা এবং পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় থাকা ন্যাটোর মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে ইউরোপ দুর্বল হয়ে পড়লে রাশিয়া এই অঞ্চলে তার প্রতিশোধমূলক ব্ল্যাকমেইল বা সীমিত সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে সহজেই রাজনৈতিক ছাড় আদায় করতে পারবে, যা তাদের জন্য একটি বিশাল কৌশলগত বিজয় হবে।

রাশিয়ার ছায়াবাহিনীর ব্যবহার

ন্যাটো দুর্বল হলে রাশিয়া সরাসরি আক্রমণের আগে হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে ‘ফিফথ কলাম’ (ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী), ‘স্বেচ্ছাসেবক’ বাহিনী, জাতীয়তাবাদী মিলিশিয়া এবং বেসরকারি সামরিক কোম্পানিগুলোকে ব্যবহার করে কৌশলগত ফায়দা লুটতে পারে বলে জানায় গার্ডিয়ান।

কোয়াড ও এশিয়ায় নতুন বিনিয়োগ

ইউরোপে ন্যাটোর পেছনে বিপুল ব্যয় কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ বৃদ্ধি করা।

সম্পদ স্থানান্তর

ইউরোপ থেকে মার্কিন সামরিক ফোর্সের একটি বড় অংশ (প্রায় ৮০ হাজার সেনা) সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ও সামরিক সক্ষমতা বাঁচবে। এই সম্পদ তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ঠেকাতে কাজে লাগাতে পারবে।

কোয়াডের রূপান্তর

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত কোয়াড এতকাল প্রধানত একটি অনানুষ্ঠানিক ও সফট-পাওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে বলে জানায় দ্য ডিপ্লোম্যাট।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে একে চীনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্লকে পরিণত করতে।

নতুন অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা

চীনের ট্রিলিয়ন ডলারের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে’ টেক্কা দিতে কোয়াড দেশগুলো বিকল্প বিনিয়োগের চেষ্টা করছে।

যেমন, ভারতে ‘কোয়াড পোর্টস অফ দ্য ফিউচারের’ মতো সামুদ্রিক অবকাঠামোতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সাপ্লাই চেইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য কোয়াড দেশগুলো নতুন করে বিনিয়োগ করছে।

সীমাবদ্ধতা

যদিও ন্যাটোর বেঁচে যাওয়া অর্থ এশিয়ায় ঢালার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কারণে মিত্র দেশগুলোর (যেমন: জাপান ও অস্ট্রেলিয়া) সাথে বাণিজ্যিক শুল্ক নিয়ে সংঘাত কোয়াডের সামরিক জোট হিসেবে গড়ে ওঠার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

 

চীনের কৌশলগত সুবিধা

ন্যাটো ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এবং ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়লে, দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় কৌশলগত ফায়দা লুটবে চীন।

মার্কিন নৌবাহিনীর সংকোচন

মর্ডান ডিপ্লোম্যাসির দাবি, সারা বিশ্বে ন্যাটোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক ঘাঁটিগুলো অবাধে ব্যবহার করতে পারে, তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বন্ধুভাবাপন্ন বন্দর ও লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনী একটি বিশ্বব্যাপী ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ থেকে একটি আঞ্চলিক ‘গ্রিন-ওয়াটার নেভিতে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

গ্লোবাল সাউথ ও ইউরোপে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি

যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা মনে করে যে আপৎকালীন সময়ে আমেরিকার ওপর আর নির্ভর করা যাচ্ছে না, তবে তারা নিরাপত্তার জন্য নতুন বলয় খুঁজতে বাধ্য হবে।

এই ভূ-রাজনৈতিক শূন্যতায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো দ্রুত রাশিয়া ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে টিকিয়ে রাখতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে বাধ্য হতে পারে বলে জানায় টাইম ম্যাগাজিন।

নতুন পরাশক্তির অবরোধের শঙ্কা

মার্কিন সামরিক ও বৈশ্বিক প্রভাব কমে গেলে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও প্রযুক্তি বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে চীনের হাতে।

এমন একটি পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়া সম্মিলিতভাবে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা মার্কিন অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে।

গতকাল বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে ন্যাটো নিয়ে আলোচনা করার কথা থাকলেও ট্রাম্প করেননি। তাই ন্যাটোর ভাঙন এখনই এতটা বাস্তব নয়।

তবে যদি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে যায়, ট্রাম্পের নীতি তখন মূলত বহুপাক্ষিক জোটের বদলে সরাসরি বাণিজ্যিক লেনদেন ও শক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।

ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা প্রমাণ করে যে, আমেরিকা এখন আর ইউরোপের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয়।

এর ফলে যে বৈশ্বিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তাতে কোয়াডের মাধ্যমে এশিয়ায় কিছু নতুন মেরুকরণ দেখা গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপ এবং গ্লোবাল সাউথে রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক এবং সামরিক আধিপত্য এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।