যেভাবে হরমুজ প্রণালি ‘ব্লকেড’, বিশ্ব অর্থনীতি কি শঙ্কায়?
সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এরপর বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের জন্ম হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার মার্কিন দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মূলত এই আলোচনা ভেস্তে যায়।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে একটি সর্বাত্মক নৌ-অবরোধ বা ব্লকেড আরোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে তাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং চরম চাপ প্রয়োগ করা।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজার এবং জ্বালানি খাতে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৮ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সিএনএন জানায়, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটিয়েছে।
এই অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে, যা আগে থেকেই চাপে থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
যুদ্ধের হাতিয়ার হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি হলো ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী একটি অত্যন্ত সরু ও কৌশলগত জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং বহির্বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করেছে। দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর সবচেয়ে সরু অংশটি মাত্র ২৪ মাইল চওড়া এবং এখানে উভয় দিকে জাহাজ চলাচলের জন্য মাত্র দুই মাইল চওড়া নেভিগেশন লেন রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, যার সিংহভাগই যেত এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫ থেকে ১৫০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।
কিন্তু গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে মাত্র ১৫০টির মতো জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। ইরান এই প্রণালিটিকে কার্যত বন্ধ করে দিয়ে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের অসম যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আল জাজিরা জানায়, জাহাজ চলাচলের এই অচলাবস্থার কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ৩ হাজার ২০০টি জাহাজ আটকে আছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
হরমুজ ‘অবরোধ’ কী
আন্তর্জাতিক নৌ-আইন বা ‘নিউপোর্ট ম্যানুয়াল’ অনুযায়ী, ব্লকেড বা নৌ-অবরোধ হলো সমুদ্রে শত্রুপক্ষের সম্পত্তি ও চোরাচালান আটক বা ধ্বংস করার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি। এর মূল লক্ষ্য হলো শত্রুর অর্থনৈতিক আয় এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ব্যাহত করা।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনগতভাবে একটি ব্লকেড কার্যকর হতে হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হয়, কার্যকর করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা থাকতে হয় এবং নিরপেক্ষ দেশগুলোর জাহাজের প্রতি বৈষম্যহীনও হতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম সকাল ১০টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর হবে। সেন্টকম জানিয়েছে, এই অবরোধ শুধুমাত্র ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং নিরপেক্ষ বা অন্য দেশের বন্দরগামী জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকার নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এই অবরোধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিদর্শন ও তল্লাশি’ নীতি প্রয়োগ করে যেকোনো জাহাজকে থামিয়ে তল্লাশি করতে পারে। এমনকি তাদের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নিতে পারবে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষক জেনিফার পার্কার সিএনএনকে বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক ‘প্রাইজ ল’, যার মাধ্যমে শত্রুর যুদ্ধ-প্রচেষ্টায় সাহায্যকারী নিরপেক্ষ বাণিজ্য জাহাজও আটক করা সম্ভব হতে পারে।
কীভাবে ব্লকেড কার্যকর করা হবে?
মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এই ব্লকেড কার্যকর করা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ একটি কাজ।
সামরিক বিশ্লেষক কার্ল শুস্টারের মতে, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলোতে ১০ থেকে ১৪ জন সদস্যের বিশেষ বোর্ডিং টিম থাকে। এই টিমগুলো বাণিজ্য জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলোকে নির্দিষ্ট বন্দরে আটক করে রাখতে পারে, তবে এই প্রক্রিয়াটি বেশ ধীরগতির।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ইউএসএস ত্রিপোলি নামে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। সেখানে ৩ হাজার ৫০০ নাবিক ও মেরিন সেনার পাশাপাশি স্টিলথ ফাইটার এবং পরিবহন উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
তবে এই অবরোধের সবচেয়ে বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ হলো হরমুজ প্রণালিতে পুঁতে রাখা ইরানি মাইন অপসারণ করা।
মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছে, ইরান স্পাইকড কন্টাক্ট মাইন, ম্যাগনেটিক মাইন, অ্যাকোস্টিক মাইন এবং প্রেসার মাইনের মতো বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তির মাইন ব্যবহার করেছে, যা নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত কঠিন।
মার্কিন নৌবাহিনী গত বছর বাহরাইন থেকে তাদের চারটি বিশেষায়িত মাইনসুইপার জাহাজ সরিয়ে নেওয়ায় এখন তাদের আন্ডারওয়াটার ড্রোন, লিটোরাল কমব্যাট শিপ এবং হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিপুল ঝুঁকির কারণে মার্কিন নৌবাহিনী তেলের ট্যাংকারগুলোতে সরাসরি গুলি চালাবে না, বরং জোরপূর্বক সেগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করবে।
অবরোধ কি আসলেই সফল হবে?
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অবরোধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ইরানের কাছে মাইন, মিসাইলবাহী ছোট নৌকা, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইলের বিশাল মজুত রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক সাবমেরিন অফিসার ইউ জিহুন এই পদক্ষেপকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি নতুন করে বড় ধরনের স্থানীয় সামরিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছে—অবরোধ কার্যকর করতে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে এবং কঠোরভাবে দমন করা হবে। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী বা শান্তিপূর্ণ জাহাজের ওপর গুলি চালালে আক্রমণকারীদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সহায়তার দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এবিসি নিউজ জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—ব্রিটিশ বাহিনী এই ব্লকেডে অংশ নেবে না এবং তারা এই যুদ্ধে জড়াতে চান না। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও জানিয়েছেন, তাদের এই অভিযানে ডাকা হয়নি।
এদিকে ডেমোক্র্যাট মার্কিন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই অবরোধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, প্রণালি অবরোধ করে কীভাবে সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব—তার কাছে বোধগম্য নয়।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব
এই নৌ-অবরোধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ শূন্যতা তৈরি হবে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান মার্চে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যা এই অবরোধের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিপুল উৎপাদনের কারণে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে মজুত রয়েছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক রবিন জে. ব্রুকস মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ হওয়ায় তেল রপ্তানি বন্ধ হলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
তবে কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি এবিসি নিউজকে বলেন, এই অবরোধের জেরে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিরা বিকল্প পথ লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। এর ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।
বাড়বে নিত্য পণ্যের দাম
তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধুমাত্র জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেবে।
সরবরাহ ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন জনসন আল জাজিরাকে বলেন, এটি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক, সার এবং প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামালের দাম আকাশছোঁয়া হবে।
বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ এলমস বলেছেন, এর ফলে ঔষধ ও অন্যান্য পণ্যের প্যাকেজিং খরচ বাড়বে এবং আগামী বছর বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে সারের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেবে। এছাড়া জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।
চীন, ভারত, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের অবস্থান
এই ব্লকেডের কারণে এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন ও ভারত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানায় সেন্ট্রাল নিউজ নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ ছাড়ে ভারত দীর্ঘ সাত বছর পর ইরানি তেল আমদানি করতে যাচ্ছিল, যা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় রাশিয়া সমালোচনা করেছে। অবরোধের ফল বিশ্ববাজারের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ব্লুমবার্গ জানায়, ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে টোল দিলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনী ওই জাহাজগুলোকে আটক করবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষক এডওয়ার্ড ফিশম্যান অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি ভুলবশত কোনো চীনা জাহাজ আটক করে, তবে তা চীনকে সরাসরি এই যুদ্ধে টেনে আনতে পারে।
অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রণালিটি দ্রুত খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানায় আনাদোলু এজেন্সি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদিও যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অবরোধ ঘোষণার পর দ্য নিউ ফিউচার, অরোরা এবং এনভি সানশাইন নামের তিনটি ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্পের এই ব্লকেড ঘোষণা সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইরানকে চাপে ফেলার একটি কৌশলগত দরকষাকষি বা ‘প্রেসার ট্যাকটিক’।
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে ট্রাম্প ইরানের মিসাইল কারখানাগুলোতে পুনরায় বিমান হামলা চালানোর কথাও বিবেচনা করছেন, যা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেস্তে দিতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের পদক্ষেপকে উপহাস করে বলেছেন, আমেরিকানদের এই অবরোধের ফলে গ্যালনপ্রতি ৪ থেকে ৫ ডলারের বেশি দাম গুনতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একে অপরকে ছাড় না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে। এই নৌ-অবরোধ এবং পাল্টা-হুমকির খেলা শেষ পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাবে নাকি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের বাস্তব সামরিক পদক্ষেপগুলোর ওপর।