কলকাতায় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় এক মঞ্চে বন্যা ও শাকিল
ভারতের কলকাতায় একই মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং নজরুলসংগীতশিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর শেক্সপিয়ার সরণির কলামন্দিরে আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় তাঁরা বিশ্বকবি ও বিদ্রোহী কবির লেখা গান গেয়ে শোনান।
মঞ্চে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করে চমক দেন নজরুলের প্রোপুত্র কাজী অরিন্দম।
২৫ মে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষেই মূলত রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যার আয়োজন করে কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস।
নজরুলের “বিদ্রোহী” কবিতার আবৃত্তির সঙ্গে একটি নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করেন ঢাকা এবং কলকাতার নৃত্যশিল্পীরা।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “কেবল সংগীত নয় সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্যে দিয়েই দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা যেতে পারে। তাঁদের মধ্যে সমঝোতাকে আরও মজবুত করা যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “গান, নাটক, কবিতা, অভিনয় - সব কিছুরই আদান-প্রদান হওয়া দরকার। আর এর মধ্য দিয়ে আমরা পরস্পর পরস্পরকে জানার সুযোগ পাবো।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে তিনি কলকাতায় এসে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকেও সম্মান দেওয়া হয়েছে। কলকাতার শ্রোতারা তাঁর গান পছন্দ করেন, তাই তিনি বারবারই কলকাতায় ছুটে আসেন বলেও মন্তব্য করেন।
খায়রুল আনাম শাকিলের ভাষায়, “কলকাতা সংস্কৃতিচর্চার একটি বিশাল জায়গা। তাই কলকাতা এসে গান করতে পেরে বরাবরই আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। সব সময় এখানে গান করে আনন্দ পাই। কলকাতার শ্রোতারাও দীর্ঘকাল ধরে সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত আছেন, বিশেষ করে শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চাও এখানে বহু প্রাচীন একটা বিষয়।”
নজরুল প্রোপৌত্র কাজী অরিন্দম মনে করেন, “বাংলাদেশ সরকার যেভাবে তাঁর দাদুকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে তাঁর আদর্শকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে সেটার জন্য কবি পরিবার তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।”