ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

‘টেলিফোন কূটনীতির’ মাধ্যমে যেভাবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই পাকিস্তানের শীর্ষ বেসামরিক নেতৃত্ব সরাসরি এবং ব্যাকচ্যানেলে ‘টেলিফোন কূটনীতির’ ওপর জোর দেয়।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে ধারাবাহিক ফোনালাপ চালান, যা এক ধরনের ‘কল-অ্যা-থন’-এ পরিণত হয়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এই ‘টেলিফোন কূটনীতি’ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা

সৌদি আরব

সংঘাতের প্রথম দিনই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ইসরায়েলি হামলার কারণে তৈরি হওয়া উত্তেজনার নিন্দা জানান। পরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়, যেখানে শান্তি, কূটনীতি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

কাতার ও ইউএই

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে কথা হয় শরিফের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও প্রথম দিনেই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

অন্যান্য আরব রাষ্ট্র

ওমানের সুলতান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাহরাইনের রাজা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে পাকিস্তান। তারা সবাই সংঘাত এড়ানো ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানান।

ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ

ইরান

পাকিস্তানের নেতৃত্ব ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে। তারা ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানায়। পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগ সম্পর্কেও ইরানকে অবহিত করা হয় বলে জানায় ডন।

তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

লেবানন ও আজারবাইজান

লেবানন

লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে কথা বলে পাকিস্তান সংহতি প্রকাশ করে এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায়। পরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইতালি ও সৌদি আরবের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়।

আজারবাইজান

আজারবাইজানে ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায় পাকিস্তান। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন তারা।

অন্যান্য আলোচনা

চীন ও ৫ দফা শান্তি উদ্যোগ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাকিস্তান ও চীনের যৌথ ‘৫ দফা শান্তি উদ্যোগ’ নিয়ে মিশর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গেও আলোচনা হয়।

ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস এবং কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে আলোচনায় ইইউ পাকিস্তানের উদ্যোগকে সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত্তে কুপার এবং স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও যুদ্ধবিরতির সুযোগ তৈরিতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি কানাডা, ইতালি ও নরওয়ের সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে তারা।

এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মিশরের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উজবেকিস্তান, জর্ডান, সিরিয়া, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে পাকিস্তান। এসব আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক শান্তির জন্য যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।