আবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, হরমুজ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতার খবর অস্বীকার করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করছিল এমন অভিযোগে ইরানের একটি ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র চারটি ইরানি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে একটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়।সেখান থেকে আরও একটি ড্রোন উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি তাদের।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, এটি ছিল সীমিত ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবি, ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজকে সতর্ক করে গুলি ছোড়ে। এতে জাহাজটি পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বন্দর আব্বাসের আশপাশে হামলা চালায়। তবে এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সতর্কতামূলক গুলির মুখে সেগুলো ফিরে যায়।
এর আগেও সোমবার দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন একে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বললেও তেহরানের অভিযোগ, এটি যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নতুন হামলার খবরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বুধবার তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমলেও পরে আবার বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে ওঠে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ৮৮ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কোনো একক দেশের হাতে থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সেই দাবিও নাকচ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, ইরান ও ওমান মিলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
ইরানি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের নতুন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এ ঘোষণা দেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো থেকে ফি আদায় করছে। এই কাজের জন্যই নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে তেহরান।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরান অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এতে বোঝা যায়, দেশটি এখন অর্থসংকটে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এই ফি দেয়, তাহলে তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সহায়তা করছে বলে ধরা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।


