ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের হামলা কেন, এরপর কী ঘটতে পারে

By স্টার অনলাইন ডেস্ক
3 January 2026, 15:17 PM
UPDATED 3 January 2026, 21:41 PM

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি অবস্থান বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ, আকাশে বিমান, সামরিক স্থাপনার কাছে ধোঁয়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। 

এদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকার মার্কিন অভিযানকে 'সামরিক আগ্রাসন' হিসেবে নিন্দা জানিয়ে জরুরি অবস্থা জারি ও দেশব্যাপী আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি যদি সত্যি হয়, তবে এটি হবে কয়েক দশকের মধ্যে কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নাটকীয় পদক্ষেপগুলোর একটি। একইসঙ্গে আইনি বৈধতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এখনো অনেক তথ্য স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে মাদুরোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিসরও রয়েছে। তাই সঠিক তথ্য ও দাবি আলাদা করে দেখা জরুরি।

আজ যা ঘটল

শনিবার ভোরের দিকে কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ভেনেজুয়েলার সরকার জানায়, রাজধানীসহ আশপাশের কয়েকটি রাজ্যে একাধিক স্থানে হামলা হয়েছে। একইসঙ্গে তারা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে নাগরিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা এবং দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সফলভাবে বড় আকারের হামলা চালিয়েছে। মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।'

02.jpg
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি: এএফপি

ট্রাম্প এটিকে 'মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে' পরিচালিত একটি অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, কারাকাসে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটক করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলায় কেন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা 

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের একটি অংশ ও তাদের ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক বহুদিন ধরে মাদক পাচারের রুট সহজ করে দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পৌঁছায়। এই কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প শিবির বলছে, এটি কোনো 'যুদ্ধ' নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগের একটি অভিযান।

4.jpg
কারাকাসের লা কার্লোতা বিমানঘাঁটিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি। ছবি: এএফপি

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও বৈধতা সংকট

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক বহু বছর ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে ওয়াশিংটন মাদুরোর শাসনের বৈধতা স্বীকার না করে বিরোধী নেতাদের সমর্থন দেওয়ায় এই বিরোধ আরও তীব্র হয়। শনিবারের সামরিক উত্তেজনার পেছনেও রয়েছে সেই মূল দ্বন্দ্ব। এছাড়া ভেনেজুয়েলা শাসনের বৈধ অধিকার কার, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আছে।

তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দেশটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই তেল আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। অন্যদিকে কারাকাস বারবার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য তাদের তেল দখল করা। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনাতেও এই অভিযোগ আবার সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের 'আঞ্চলিক নিরাপত্তার' বয়ান

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য—ভেনেজুয়েলার সমস্যা শুধু দেশের ভেতরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের দাবি, দেশটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে, যেখানে অপরাধী নেটওয়ার্কের বিস্তার, অভিবাসনের বাড়তি চাপ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অস্থিরতার প্রভাব একসঙ্গে জড়িত।

ইরানের ভূমিকা

এই সংকটে কম আলোচিত, তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ইরানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল-সম্পর্ক, যা ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে। 

গত কয়েক বছরে উভয় দেশই কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ায় ইরান জ্বালানি সরবরাহ, পরিশোধন সহায়তা ও তেল পরিবহনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।

এই সহযোগিতার ফলে এমন একটি তেল পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, যা ওয়াশিংটনের মতে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পরিকল্পিত ছিল। এতে এমন ট্যাংকার ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর উৎস গোপন, পতাকা বদল বা মধ্যবর্তী রুট দিয়ে চলাচল করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে তেল-সংক্রান্ত এই কার্যক্রম আরও প্রকাশ্যে আসে। সেসময় যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান সাগরে কয়েকটি ট্যাংকার ধাওয়া করে জব্দ করে। কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, জব্দ করা ট্যাংকারগুলো ভেনেজুয়েলা ও ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

এই আলোচিত ঘটনায় এমন একটি জাহাজের কথা সামনে আসে, যেটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল বহনের অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে এড়িয়ে চলতে নিজের পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।

ভেনেজুয়েলা এই পদক্ষেপকে 'জলদস্যুতা' বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, এই তেল বাণিজ্য অবৈধ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অর্থায়নে ব্যবহার হচ্ছে। ট্যাংকার এই ঘটনার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে, যা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, কূটনীতির পাশাপাশি তেলের নিয়ন্ত্রণও এখন কারাকাসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা কী বলছে?

ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে হামলাগুলোকে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকারি বক্তব্যে কারাকাস ঘটনাগুলোকে 'সাম্রাজ্যবাদী হামলা' হিসেবে তুলে ধরে নাগরিকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে এবং সমাজ ও রাজনীতির সর্বস্তরে 'মোবিলাইজেশন পরিকল্পনা' নেওয়ার কথা বলেছে।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে যে, সংকটটি শুধু রাজনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা বড় ধরনের সামরিক প্রতিশোধ, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে গড়াবে। 

'মাদুরোর আটক' নিয়ে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে

ট্রাম্পের দাবি, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একাধিক বড় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিঘ্ন ঘটেছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে—মাদুরোকে কোথায় রাখা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা তার শারীরিক হেফাজত নিশ্চিত করেছেন কি না, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ এবং কোনো আনুষ্ঠানিক আইনগত প্রক্রিয়া যেমন অভিযোগ, প্রত্যর্পণের তত্ত্ব বা হেফাজতের ভিত্তি প্রকাশ্যে নথিভুক্ত হয়েছে কি না। 

এদিকে একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। 

সূত্র জানায়, মাদুরোকে নিউইয়র্কে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে তাকে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

আন্তর্জাতিক আইনে যা আছে

জাতিসংঘ সনদের অধীনে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগ সাধারণত নিষিদ্ধ। তবে কিছু সীমিত ক্ষেত্রে এটি বৈধ ধরা হয়। বিশেষ করে যখন এটি আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়া থাকে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান চালানোর বৈধতা নির্ধারণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি মূলত আত্মরক্ষা এবং মাদক ও কথিত আন্তঃদেশীয় অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত পেরিয়ে সামরিক অভিযান চালানো বা অন্য দেশের মাটিতে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের চোখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয় না। 

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আইনগত বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এপি জানিয়েছে, বড় সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকার বিষয়ে আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে এই বিষয়ে বিশ্বের কোনো তাৎক্ষণিক ঐকমত্য নেই। জাতিসংঘে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ও যেসব সরকার এটিকে আগ্রাসন হিসেবে দেখছে, তাদের মধ্যে তীব্র বিভাজন দেখা দিতে পারে। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কি এমন কিছু করেছে?

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মূলত নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং গোপনধাঁচের রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি শারীরিকভাবে সরানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য সামরিক হামলার কোনো নজির এর আগে দেখা যায়নি। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো ছিল মার্জিত এবং আংশিকভাবে গোপনশীল, সরাসরি যুদ্ধে নেমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর মতো নয়।

তবে বৃহত্তর অঞ্চলে সবচেয়ে কাছের ঐতিহাসিক উদাহরণ হলো পানামা। দেশটিতে ১৯৮৯ যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার ও নিরাপত্তা হুমকির কথা বলে হামলা চালিয়ে ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করে। পার্থক্য হলো, ভেনেজুয়েলা আকারে বড়, ভূরাজনীতিতে বেশি জটিলভাবে জড়িত এবং আজকের তথ্য পরিবেশে বৈধতা নিয়ে লড়াই তাৎক্ষণিক ও বৈশ্বিক হয়ে ওঠে।

এরপর কী হতে পারে?

স্বল্পমেয়াদে তিনটি পথ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো—ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই, মাদুরোকে যদি সত্যিই সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন হলো—কে সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে? ক্ষমতার শূন্যতা ভাঙন, অভ্যুত্থান বা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী দাবি সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানকে 'সফল' ঘোষণা করলেও অন্যান্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো ক্ষমতার রূপান্তরকে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এতে ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হুমকির মুখে পড়তে পারে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনির্দিষ্টকালীন সংকটের সুযোগ তৈরি করবে।

প্রতিশোধ ও উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি

ভেনেজুয়েলা অসমমিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে—যেমন সাইবার হামলা চালানো, আঞ্চলিক প্রক্সি ব্যবহার করা বা যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা—অথবা সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভুল হিসাব বা ক্যালকুলেশন, বিশেষ করে যদি হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় বা বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তিগুলো কোনো পক্ষ সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক মাত্রায় সংকট তৈরি করতে পারে।